—প্রতীকী চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পরে, মানসিক চাপে ফের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল রাজ্যের তিন জেলায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টায় এক বিএলও-সহ মারা গিয়েছেন চার জন।
মালদহের কালিয়াচক-১ ব্লকের বাসিন্দা তথা সুজাপুর নয় মৌজা শুভানিয়া হাই মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল বরকত (৫১) ১৫৩ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। তাঁর বুথে ১৩০০ ভোটারের মধ্যে ৫৭৯ জনের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে রয়েছে। শুক্রবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিএলও-র ছেলে হাসিব আখতার বলেন, ‘‘বিবেচনাধীনদের নিয়ে বাবা মানসিক চাপে ছিলেন। তার জেরেই হৃদ্রোগে মৃত্যু।’’
বৃহস্পতিবার রাতে মালদহেরই হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের আব্দুস সাত্তারের(৬৪) মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি,হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালের পথে মারা যান। মৃতের ছেলে তারিকুল আলম বলেন, ‘‘শুনানিতে নথি জমা দিলেও নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন বাবা। তার পরেই এই ঘটনা।’’
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ছিল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংড়াবান্ধার মহম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকী (৬০) ও তাঁর স্ত্রীর নাম। কিন্তু চার ছেলেমেয়ের নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন বৃদ্ধ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হৃদ্রোগে তাঁর মৃত্যু হতে ‘এসআইআর’ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রসঙ্গ তুলেছে পরিবার। একই দাবি তৃণমূলেরও।
বৃহস্পতিবার রাতে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান জিয়াগঞ্জের রঞ্জিতপাড়া এলাকার গুলফুন বিবি (৬৮)। পড়শিদের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধা। বুধবার সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে।
‘এসআইআর-আতঙ্কে’ মৃত্যুর প্রতিবাদে এ দিন মালদহের বামনগোলা, চাঁচল, কালিয়াচকে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক টিঙ্কু রহমান বিশ্বাস বলেন, “আর কত মৃত্যু হলে ঘুম ভাঙবে বিজেপি-পরিচালিত নির্বাচন কমিশনের, জানি না!” বিজেপির উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “মৃত্যু নিয়ে তৃণমূল রাজনীতি করছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে