Humayun Kabir Controversy

‘তৃণমূলের সঙ্গে ২০ কোটির ডিল করেছে’! ভিডিয়ো বিতর্কের মাঝে হুমায়ুনের নয়া অভিযোগ, মিমের খোঁচা, ‘মাথাটা গেছে’

মিমের সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার কারণ জানিয়ে নতুন অভিযোগ নিয়ে হাজির হুমায়ুন কবীর। পাল্টা প্রাক্তন জোটসঙ্গী মিম প্রমাণ চেয়ে কটাক্ষ করল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২১
Share:

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। —ফাইল চিত্র।

১৯ মিনিটের বিতর্কিত ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট ছিন্ন করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম। বিতর্কের মুখে এ বার তাদের বিরুদ্ধে ‘ডিল’ করার অভিযোগ তুললেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে কোণঠাসা করতে মিমের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘ভুয়ো ভিডিয়ো’ বার করেছে তৃণমূল। এ জন্য তিনি আদালতে যাবেন।

Advertisement

শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন রাজ্যের শাসকদল এবং মিম নেতৃত্বের একাংশকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েক জন মিম নেতার সঙ্গে তৃণমূলের বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তাঁর যে ভিডিয়ো রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে, তার সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। পাশাপাশি, জোট ভেঙে যাওয়ার জন্য মিমের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখকে দায়ী করে হুমায়ুন বলেন, ‘‘ওই দুই নেতার সঙ্গে জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান এবং তৃণমূলের প্রতিনিধির ২০ কোটি টাকার ‘ডিল হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা ২ কোটি টাকা ‘অ্যাডভান্স’ পেয়েছেন।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘আমার যে ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে এসেছে, তার সত্যতা যাচাই না করে মিমের ওই নেতারা তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে তা আসাদউদুদ্দিন ওয়েইসি সাহেবকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই কারণেই এই জোট ভেঙে গিয়েছে।’’

হুমায়ুনের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন মিমের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল। সদ্য প্রাক্তন জোটসঙ্গীর উদ্দেশে তাঁর খোঁচা, ‘‘হুমায়ুন কবীরের মাথা কাজ করছে না। যত দিন না উনি প্রমাণ করতে পারবেন ওই ভিডিও ‘ফেক’ (ভুয়ো), তত দিন মিম ওঁর পাশে থাকতে পারে না। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর আমরা আসাদউদ্দিন সাহেবকে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম। তার ভিত্তিতেই আমাদের দল জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আসন্ন নির্বাচনে আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না। আগামী ১৩, ১৪ এবং ১৫ এপ্রিল আসাদউদ্দিন সাহেব রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় আমাদের দলীয় প্রার্থী ইমরান সোলাঙ্কির সমর্থনে প্রচার করবেন। রাজ্যে একাধিক আসনে আমরা জয়ী হব।’’

Advertisement

হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন আঁতাঁত’-এর অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনে তৃণমূল। তাতে শোনা যায়, বিজেপির কাছে এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। ২০০ কোটি টাকা অবিলম্বে দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সেখানে মিমকে নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে।

হুমায়ুন অবশ্য গোড়া থেকেই ওই ভিডিয়ো এআই-এর কারসাজি বলে দাবি করে হাই কোর্টে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। অন্য দিকে, এর মধ্যে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মোট তিনটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কলকাতার ময়দান, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বীরভূমের সিউড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে ভোটে মেরুকরণের চেষ্টা করছেন হুমায়ুন। অন্য দিকে, ওই ভিডিয়ো-বিতর্কের মধ্যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বেশ কয়েক জন নেতা দল ছেড়েছেন। এত সবের মধ্যেও মচকাচ্ছেন না হুমায়ুন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement