মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘ভোটের দিন আমরা যদি যোদ্ধা হই, আপনারা আমার সহযোদ্ধা হবেন তো?’’
মমতার নয়া অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনোনয়ন নিয়ে ৪ ঘণ্টা স্ক্রুটিনিতে আমাকে জ্বালিয়েছে। আমি ছেড়ে দেব এদের? আপনারা ছাড়লেও আমি ছাড়ব না এদের।’’
সিউড়িতে মমতা বলেন, ‘‘উজ্জ্বল প্রার্থী নয় এখানে। প্রার্থী আমি। তৃণমূলের নেতৃত্বে সরকার চাইলে ২৯৪ আসনে আমি প্রার্থী। মোদীজি বলছেন, উনি ২৯৪টি আসনের প্রার্থী। ঠিক আছে। তা হলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন। দিয়ে বলুন, আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হব। আমাকে ২৯৪ আসনে ভোট দিন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী? বলে দিন। আপনি তো বাংলায় বহিরাগত।’’
‘‘তোমরা ১২ বছর ধরে আমাকে জ্বালাচ্ছ। আগে সিপিএম ছিল। তার পর এরা রোজ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে খাচ্ছে। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার নাম করে ‘মন কি বাত’-এর নামে বাচ্চাদের মাথা খাচ্ছে।’’
‘‘এদের ধর্ম মানে বিষবৃক্ষ। মানুষের মাথায় বিষ ঢালা এদের ধর্ম! কিছু আরএসএসের নেতা আছে। খেয়েদেয়ে হোদল কুতকুত হচ্ছে।’’
‘‘মোদীবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন, কর্মসংস্থানের কী হল। আপনারও তো ১২ বছর হল। ২ কোটি চাকরি কোথায় গেল? আর আমদের প্রশ্ন? আমরা শূন্যপদ পূরণ করতে গেলেই কোর্টে কেস দেয়। যাতে চাকরিগুলো আটকে যায়। এখন চাকরির কথা! এ সব ছলনা আর বাংলার মানুষের সঙ্গে করো না।’’
‘‘যারা বাংলায় কথা বললে মারো, তারা কী ভাবে ভোট চাও এখানে?’’ বিজেপিকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এসআইআরকে ‘বিগ স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘এত বড় জুমলা এর আগে হয়নি। ভোটার কাটার ষড়যন্ত্র। কেউ বিজেপিকে ভোট দেবেন না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছ? তোমার নেতারা হলদিয়া বন্দর থেকে কত টাকা তোলে? কত টাকা যায় দিল্লি? সৌজন্যের খাতিরে আর বলছি না। ইশারাই কাফি... বুঝে নাও।’’
‘‘বিজেপি দেবে চাকরি? রেলে গ্যাংমান নিয়েছে? সেনায় পদ খালি। তার পরেও বলছে চাকরি দেবে! চাকরি দেব আমরা।’’ সিউড়ির সভায় খোঁচা তৃণমূলনেত্রীর।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতার। তিনি বলেন, ‘‘কাল একজন বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের মতো এখানে বুলডোজ়ার চলবে। মানেটা কী? আমি বুলডোজ়ার-রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ভালবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। ভুল করবেন না। আমার কাজ আপনাদের সতর্ক করা। অ্যাকাউন্ট বানিয়ে টাকা দেবে বলে কালোটাকা দিয়ে দেবে। তার পর ইডি-সিবিআইয়ের মামলা করবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আগের বার নির্বাচনে বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডার দেব। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমরা ভোটের প্রতিশ্রুতিতে ভাঁওতা দিই না। বিহারে ভোটের আগে আট হাজার টাকা দিয়ে পরে ফেরত নিচ্ছে। আমি ভিডিয়ো দেখাতে পারি। তিন হাজার দেবে বলছে। কখনও এক হাজার টাকা দিয়েছ?’’
বীরভূমের মাটিতে তাঁর শৈশব কেটেছে। গরমের ছুটিতে মামাবাড়ি যেতেন। পুকুরে সাঁতার থেকে মাঠে ঘোরা, দারুণ কেটেছে দিনগুলো। সিউড়ির সভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘‘আমাকে একটা জায়গা দেখিয়ে দিক... ১০৫টা সোশ্যাল স্কিম আছে বাংলায়।’’ সিউড়ির সভা থেকে চ্যালেঞ্জ মমতার
সভা শুরু করলেন মমতা। বীরভূমের জন্য নানা উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান দেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলনেত্রী জানান, ডেউচা পাঁচামিতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। ২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
চার জায়গায় নির্বাচনী কর্মসূচি রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সিউড়ির পর কাঁকসায় সভা করবেন তিনি। সেখানে আউশগ্রামের প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার এবং অলোককুমার মাঝির সমর্থনে প্রচার করবেন তৃণমূলনেত্রী। তার পর বাঁকুড়ার প্রার্থী অনুপ মণ্ডলের জন্য তামলিবাঁধ স্টেডিয়াম থেকে হিন্দু হাই স্কুল পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন। এর পর মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবেন দুর্গাপুরে। চতুরঙ্গ ময়দানে দুর্গাপুর পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভার দুই প্রার্থী প্রদীপকুমার মজুমদার এবং কবি দত্তের সমর্থনে সভা করবেন।
নির্বাচনী প্রচারে আবার জেলা সফরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বীরভূম, বাঁকুড়া, পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। প্রথম সভাটি রয়েছে বীরভূমের সিউড়ি ইরিগেশন কলোনির মাঠে। সিউড়ির তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।