ব্রিগেডের মঞ্চে (বাঁ দিক থেকে) শমীক ভট্টাচার্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
রাজ্য নেতাদের বক্তৃতার শেষে ব্রিগেডের মঞ্চে বলতে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন রাজ্য নেতারা। প্রচুর সংখ্যক কর্মী-সমর্থক ব্রিগেডে জড়ো হয়েছেন। রোদ সত্ত্বেও তাঁরা ঠায় বসে রয়েছেন। ভাষণ শেষে বিকেলে কলকাতা ছাড়বেন মোদী।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মোদীর সামনে ব্রিগেডের মঞ্চে বলতে উঠেছেন। শমীক বলেন, ‘‘আমাদের একটাই লক্ষ্য: ২০২৬ সালের নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন। এটা কোনও ধর্মশালা নয়। এ দেশের মানুষকেই আমরা এ দেশে রাখব, ভোটার তালিকায় রাখব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে বিজেপি আসছে। এটা কালের দেওয়াল লিখন। একে কেউ বদলাতে পারবে না।’’ রাষ্ট্রপতিকে অপমান নিয়েও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন তিনি।
ব্রিগেড মঞ্চে শমীক ভট্টাচার্য। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পর মঞ্চে বলতে শুরু করেন তিনি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘এই সভা থেকে পরিবর্তনের সঙ্কল্প নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ১৮ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন। বাংলার হৃতগৌরব ফেরাবে বিজেপি। মোদীজির নেতৃত্বে আমরা ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠন করব।’’
সরকারি অনুষ্ঠান শেষে ব্রিগেডে রাজনৈতিক মঞ্চে পৌঁছোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছে গিয়েছেন। চলছে সরকারি অনুষ্ঠান। এখান থেকেই রাজনৈতিক সভামঞ্চে উঠবেন তিনি।
রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পে দেড় হাজার টাকাকে কটাক্ষ করেন মিঠুন। বলেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর সমস্ত কষ্ট দূর করব। কথা দিচ্ছি। সরকারে এলে আমাদের প্রথম কাজ হবে আলুচাষিদের জন্য।’’ মমতাকে কটাক্ষ করে মিঠুন বলেন, ‘‘অনেক মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি। এমন কাউকে দেখিনি, যিনি এত মিথ্যা কথা বলেন।’’
দিলীপের বক্তৃতার সময়েই ব্রিগেডের উপর দেখা যায় মোদীর হেলিকপ্টার। মাঠ থেকে পতাকা নেড়ে তাঁকে স্বাগত জানানোর ডাক দেন দিলীপ।
দিলীপ ঘোষ ব্রিগেডের মঞ্চে বলতে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘‘চোর-ডাকাতের সরকারকে বিদায় দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গকে বিজেপির হাতে তুলে দিন। আমরা রাজ্যে স্বপ্নের পরিবর্তন করব। আপনার ছেলে বাড়ি ছেড়ে গুজরাত বা অন্য কোথাও চাকরি করতে যাবে না। পশ্চিম ভারতে, দক্ষিণ ভারতে অনেকে চাকরি করতে যান। গত দু’মাসে প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যকে ১২টি ট্রেন দিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করবেন। প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন বাঙালিকে দিয়েছেন মোদী। রাজ্যে অনেক বিমানবন্দর করে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের প্রভুত উন্নতি হয়েছে। এখানকার সরকারকে দেখে কোনও শিল্পপতি রাজ্যে আসেন না। তৃণমূল নিজেকে ভগবান মনে করছে।’’
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন দিলীপ। বলেন, ‘‘তৃণমূলের সভায় লোক আনা ছাড়া পুলিশের আর কোনও কাজ নেই। সাধারণ মানুষের কথা ওরা শোনে না।’’
কলকাতা বিমানবন্দরে নামল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমান। অসমের শিলচরে সভা শেষ করে শহরে এলেন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
ব্রিগেড মঞ্চে বলতে উঠেছেন রাহুল সিংহ। সদ্য দল তাঁকে রাজ্যসভার টিকিট দিয়েছে। মোদী আসার আগে মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি।
ব্রিগেড মঞ্চে বলতে উঠেছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘পরিবর্তন যাত্রাতেই আমরা টের পেয়েছি, মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। অবশ্যই রাজ্যে পরিবর্তন আমরা আনব।’’
কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ব্রিগেডের মঞ্চে রয়েছেন। রয়েছেন প্রবীণ নেতা তথাগত রায়ও।
ব্রিগেডের মঞ্চে বিজেপি নেতারা। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
ব্রিগেড মঞ্চে বলছেন সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কৃষকসম্মান নিধিতে ১৩ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কি এগুলো দেখতে পান না? উল্টে আলুচাষিদের বঞ্চনা করছেন আপনি। আলুর দাম কমে গিয়েছে রাজ্যে। আলুচাষিরা হাহাকার করছেন। বিজেপি সরকার তৈরি হলে আলুর সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ না করতে চাইলে বিজেপির সরকার গড়ুন।’’ বক্তৃতার শেষে ‘পাঁচালি’ পড়ে শোনান সুকান্ত।
ব্রিগেড মঞ্চে পৌঁছেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এসেছেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীও।
মিঠুন চক্রবর্তী, তথাগত রায় ব্রিগেডের মঞ্চে। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে উৎসবের মেজাজে বিজেপি। তির-ধনুক হাতে গেরুয়া পোশাকে সেজেছেন এক জন। —নিজস্ব চিত্র।
ব্রিগেড মঞ্চে বক্তৃতা করছেন তাপস রায়। কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন তিনি। অভিযোগ, সংখ্যাগুরুকে বঞ্চনা করছেন মমতা। তাপসের কথায়, ‘‘হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার কোনও ফারাক নেই।’ বাঙালি-অবাঙালি তফাতে বিশ্বাস না করার বার্তা দিয়েছেন তাপস।
প্রধানমন্ত্রীর সভা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টার, ব্যানার এবং কাটআউটের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি। তৃণমূলও তার পাল্টা পোস্টার এনেছে। শনিবার ব্রিগেডে মোদীর সভার আগে এক্সাইডের কাছে ফুটপাথে দেখা গেল, একটি কাটআউটের মাথা কাটা। নীচে কাটা অংশটি পড়ে রয়েছে।
এক্সাইডের কাছে ফুটপাথে মোদীর কাটআউট। —নিজস্ব চিত্র।
কলকাতা পুলিশের যে আধিকারিক এবং কর্মীরা ব্রিগেডের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন, তাঁদের জন্য মোবাইল ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাড়িতে খাওয়াদাওয়া সারছেন তাঁরা।
মোবাইল ক্যান্টিনে পুলিশের খাওয়াদাওয়া। —নিজস্ব চিত্র।
অগ্নিমিত্রা পাল বক্তৃতা করছেন। সভাস্থলে আছেন শুভেন্দু, সুকান্ত, শমীক, রাহুল সিংহেরা। এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য বৈধ ভোটারদের নাম তুলতে দিলেন না। যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি চুরি করে অযোগ্যদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্ষিতা মহিলাদের পাশে দাঁড়াননি। অত্যাচারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ রাজ্যের মানুষ আপনার উপর ভরসা করেছিল। আপনি পশ্চিমবঙ্গকে শ্মশানে পরিণত করেছেন।’’