ব্রিগেডে বিজেপির সভার প্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত।
প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য মঞ্চ প্রস্তুত! শুক্রবার রাতের ব্রিগেড। —নিজস্ব চিত্র।
শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। জেলা থেকে অনেক কর্মী-সমর্থক মোদীর সভায় যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন। দুই স্টেশনেই অস্থায়ী ক্যাম্প করেছে বিজেপি। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের প্রাতরাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনে তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন সজল ঘোষ। শঙ্কর ঘোষ রয়েছেন হাওড়ায়।
মোদীর ব্রিগেড সভা নিয়ে কলকাতা জুড়ে পোস্টার সেঁটেছে বিজেপি। তৃণমূলও তার পাল্টা পোস্টার তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘বয়কট বিজেপি’। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘তৃণমূল সত্যিই ভয় পেয়েছে। ‘বয়কট বিজেপি’ পোস্টার সেই ভয়ের সূচক। যত ভোট এগিয়ে আসছে, ওদের ভয় বাড়ছে।’’
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেডমুখী বাসে হামলার অভিযোগ। বাসটির পিছন দিকের কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, তাঁদের ব্রিগেডযাত্রা আটকাতে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল।
বিজেপি কর্মীদের ভাড়া করা বাস ক্ষতিগ্রস্ত। —নিজস্ব চিত্র।
অসম হয়ে কলকাতায় আসবেন মোদী। ব্রিগেডে সভার পর বিকেলের মধ্যেই ফিরে যাবেন।
শনিবার কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেলা ১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন তিনি। ব্রিগেডে তাঁর সভাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রস্তুত মোদীর সভাস্থলও। ধীরে ধীরে কর্মী-সমর্থকেরা ব্রিগেডমুখী হচ্ছেন।
২০২১ সালের ৭ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে শেষ বার জনসভা করেছিলেন মোদী। পাঁচ বছর পরে আবার ব্রিগেডে সভা তাঁর। ঘটনাচক্রে, তাঁর সভার তারিখটি পশ্চিমঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে আর একটি ‘মোড় ঘোরানো’ দিন। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন।
ব্রিগেডের মঞ্চ দেখে মনে হচ্ছে, সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ‘বাঙালিয়ানা’। মঞ্চের সর্বত্রই বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। বাঙালি গরিমায় শান দিতে মঞ্চের পটভূমিতে যেমন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিকৃতি আছে, তেমনই মঞ্চের প্রতিটি কোণায় থাকছে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা উপাদান। বিষ্ণপুরের ‘ঐতিহ্যবাহী’ টেরাকোটা থেকে পট, কীর্তন, বাউল-সহ নানা শিল্পকর্ম থিমের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে মঞ্চের দু’ধারে।
শনিবার দুপুরে কলকাতায় আসছেন মোদী। প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ব্রিগেডেই সরকারি মঞ্চ থেকে ১৮,৮৬০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরে সেখানেই পৃথক মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সভা করবেন। বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতা শহরে মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে স্বভাবতই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রথমত, মোদীর সভায় ভিড় কেমন হবে। দ্বিতীয়ত, কোন পথে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন। তৃতীয়ত, সম্প্রতি অমিত শাহ যখন রায়দিঘির সভা থেকে স্পষ্ট তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন, তেমন কোনও প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর তরফে দেওয়া হয় কি না।