কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
শাহ বলেন, ‘‘মোদীজির আমলে উরিতে হামলার পর আমরা সার্জিকাল স্ট্রাইক করেছি। পুলওয়ামায় হামলার পর আমরা এয়ারস্ট্রাইক করেছি। পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে আমরা ‘অপারেশন সিঁদুর’ করে ওদের ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের মেরেছি।’’
শাহ বলেন, ‘‘মমতাদির এজেন্ট হুমায়ুন কবীর বলছেন, এখানে বাবরি মসজিদ বানাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কান খুলে শুনে নিন, এই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ। বিজেপির সরকার আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কেউ বাবরি মসজিদ তৈরি করতে পারবেন না। হুমায়ুন কবীরের মাধ্যমে ভাইপো এখানে বাবরি মসজিদ বানাচ্ছেন। শুনুন, আপনাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে। বিজেপি সময় শুরু। এখানে কোনও বাবরি মসজিদ হবে না।’’
শাহ বলেন, “আপনারা বলুন, অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি করা উচিত ছিল কি ছিল না? ৫৫০ বছর ধরে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি, ডিএমকে রামলালাকে তাঁবুতে রেখে দিয়েছিল। ব্রিটিশদের থেকে শুরু করে কংগ্রেস— সকলে রামমন্দিরের বিরোধিতা করেছিল। ২০১৯ সালে আপনারা নরেন্দ্র মোদীকে জিতিয়েছেন। মোদীজি অযোধ্যায় রামমন্দির বানিয়ে দিয়েছেন।”
মমতা সরকারকে তোপ দেগে শাহ বলেন, ‘‘এখানে মহিলাদের উপর অত্যাচারের সীমা পার হয়েছে।’’ আরজি কর, দুর্গাপুর, সাউথ ক্যালকাটা ’ল কলেজে ধর্ষণকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন শাহ। তার পরেই মমতা এবং তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আজ আমি এখান থেকে ঘোষণা করছি, বিজেপি সরকার গড়লে রাত ১টার পরে মহিলারা বার হতে পারবেন নিশ্চিন্তে। আমরা সুরক্ষা দেব।’’
শাহ বলেন, ‘‘মমতাদিদি সব সময় আদিবাসীদের অপমান করেন। নরেন্দ্র মোদী আদিবাসী কন্যা দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করেছেন। তিনি সাঁওতালদের কর্মসূচিতে এখানে এসেছিলেন। তাঁকে মমতাদিদি অপমান করেছেন। অম্বেডকর জয়ন্তীতে আমি বলে যাচ্ছি, আমরা রাষ্ট্রপতির অপমান সহ্য করব না।’’
মালদহের সভায় শাহ বলেন, ‘‘চা বাগানের শ্রমিকদের নিজের জমির মালিক করার কাজ করবে বিজেপি। আমাদের অনেক কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। ৩০০-র বেশি বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে। আমি আজ এখান থেকে বলে যাচ্ছি, ৫ তারিখ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার পর হত্যাকারীদের পাতাল থেকে খুঁজে এনে জেলে ভরা হবে।’’
বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’-এর কথা স্মরণ করলেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘৫ মে অর্থাৎ বিজেপির সরকার গড়ার পর এখানকার সব দিদির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ঢুকবে। বেকার যুবক-যুবতীরা তিন হাজার টাকার চেক ঘরে বসে পেয়ে যাবেন। গর্ভবতী মহিলারা এককালীন ২১ হাজার টাকা পাবেন। সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন।’’
শাহ বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গের জন্য এমস তৈরি করবেন নরেন্দ্র মোদী। আলাদা করে তৈরি হবে ক্যানসার হাসপাতালও। উত্তরবঙ্গের যুবকদের জন্য আইআইটি এবং আইআইএম তৈরির কাজ করবে বিজেপি সরকার।’’ রাজবংশী ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেন শাহ।
মালদহে দাঁড়িয়ে শাহ বলেন, ‘‘এখানকার আম গুজরাতে পছন্দ করে। কিন্তু আমের জন্য কোনও হিমঘর করেনি এখনকার সরকার। আমি আমচাষিদের বলে যাচ্ছি, বিজেপি সরকার এখানে হিমঘর তৈরির কাজ করবে।’’
শাহ বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার গড়ার পর আমরা সাড়ে ৬০০ একর বিএসএফ-কে জমি দেব। সেখানে কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ হবে যাবে। এক এক জন অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে খুঁজে বার করে দেশছাড়া করার কাজ করবে বিজেপির সরকার।’’
শাহ বলেন, ‘‘এখানে অনেকে চারটি বিয়ে করেন তো? কেউ একটা করেন। অপেক্ষা করুন। বিজেপির সরকার আসছে। চারটি বিয়ে করা চলবে না। ৫ তারিখের পর পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি নীতি (ইউসিসি) চালু হবে। চিন্তা করবেন না।’’
শাহ বলেন, ‘‘সব সিন্ডিকেট শেষ করার সময় এসে গিয়েছে। ৫ তারিখ থেকে সেই কাজ শুরু হবে।’’ তৃণমূলকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। সিন্ডিকেট যাঁরা করেন, তাঁদের সকলকে জেলে পাঠানো হবে। মালদহের মধ্যে দুর্নীতি ছড়িয়ে রেখেছেন মমতাদি। ১০০ কোটি টাকা নরেন্দ্র মোদিজি পাঠিয়েছিলেন। সেই টাকা মমতাদির সিন্ডিকেট খেয়ে নিয়েছে। মমতাদি, আপনি আপনার সিন্ডিকেটকে বলে দিন, যাঁরা সাধারণ মানুষের পয়সা খেয়েছেন, ৫ তারিখের পর তাঁদের সুদসমেত ফেরত দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে।’’
গাজোলের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘‘ভিড় দেখেই মনে হচ্ছে, ৪ তারিখ মমতার সরকারকে টাটা টাটা বাই বাই’ করার সময় এসে গিয়েছে।’’
বক্তৃতার শুরুতেই দেরিতে সভা শুরু করার জন্য ক্ষমা চাইলেন শাহ।
‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে বক্তৃতা শুরু করলেন শাহ। শুরুতেই ‘পরিবর্তনের’ ডাক দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার মালদহে দু’টি জনসভা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। প্রথম সভা ছিল মানিকচকে। সেই সভা থেকে তিনি সোজা চলে আসেন গাজোলে। সেখানেই তাঁর মালদহে দ্বিতীয় জনসভা। মঙ্গলবার আরও একটি জনসভা করেছেন তিনি। দিনের প্রথম জনসভাটি ছিল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। তবে জনসভার আগে উত্তর দিনাজপুরে একটি রোড শো করেন শাহ।