ডায়মন্ড হারবারের সিআরপিএফ ক্যাম্পে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। —নিজস্ব চিত্র।
ভোটের দিন সকালে বেরিয়ে পড়েন অজয়পাল শর্মা। তাঁর কনভয় শিরাকোল হয়ে সোজা চলে যান ডায়মন্ড হারবার স্টেশনের কাছে সিআরপিএফের অস্থায়ী ক্যাম্পে। ঘড়িতে তখন সকাল পৌনে ৮টা। তিনি যখন ওই ক্যাম্পে ছিলেন, তখন সেখানে আসেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ। প্রায় আধঘণ্টা ক্যাম্পের ভিতরে ছিলেন দু’জনে। ছিলেন সিআরপিএফের অন্য আধিকারিকেরাও। ভোটের দিনে জ্ঞানেন্দ্র এবং অজয়পালের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কৌতূহল নানা মহলে।
সোমবার থেকেই আলোচনায় অজয়পাল। ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর একটি ভিডিয়ো ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই ভিডিয়োয় (যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) দেখা যাচ্ছে, উপস্থিত কয়েক জনের উদ্দেশে ‘হুঁশিয়ারি’র সুরে কথা বলছেন অজয়পাল। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিয়োটি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছেই। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও ‘বার্তা’ দিতে দেখা গিয়েছে। প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিয়ো ঘিরেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে তৃণমূল।
মঙ্গলবারও আলোচনায় ছিলেন অজয়পাল। মঙ্গলবার সকালে অজয়পাল ও জাহাঙ্গির মুখোমুখি হন। তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অজয়পালের কনভয় যাওয়ার সময় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওঠে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তবে অজয়পাল দমেননি। দিনভর তিনি নিজের এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। ভোটের দিন তিনি কী করেন, নজর ছিল অনেকের। দেখা যায়, বুধবার সকালে থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ঘুরছেন অজয়পাল। তবে সকাল ১১টা পর্যন্ত নতুন করে তাঁকে ঘিরে কোনও বিশৃঙ্খলার খবর মেলেনি।
অন্য দিকে, অজয়পালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মামলাও হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারী আবেদনপত্রে জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, অজয়পালকে কমিশন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছে। কিন্তু তিনি পক্ষপাতদুষ্ট এবং তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন।