পরিচালক সঞ্জয়ের সেটের দুর্ঘটনা উস্কে দিল রাহুল-স্মৃতি, তদন্ত প্রসঙ্গে কী বললেন শান্তিলাল, রূপাঞ্জনা, অম্বরীশেরা? ছবি: সংগৃহীত।
পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর সেটে বড় দুর্ঘটনা। ‘লভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির শুটিং চলাকালীন ছবির সেটেই কয়েক দিন আগে মৃত্যু হয়েছে ৪২ বছর বয়সি এক কর্মীর। ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্চ মাসের শেষ থেকে বাংলা চলচ্চিত্রজগৎও কার্যত তোলপাড় হয়েছিল। নেপথ্যে ছিল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন আকস্মিক মৃত্যু।
সঞ্জয়ের সেটের দুর্ঘটনার পরেই পরিচালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবি তুলেছে সেখানকার অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই ভাবে, ২৯ মার্চ রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পরে একত্রিত হয়েছিল স্টুডিয়োপাড়ার বিভিন্ন সংগঠন। আর্টিস্ট ফোরাম, ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন(ইমপা) এবং ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া একত্রিত হয়ে বৈঠক করে।
যে প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন রাহুল, তাদের দিকে গাফিলতির আঙুলও তোলা হয়েছিল। শুটিংয়ে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ অনেকেই রিজেন্ট পার্ক থানায় ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। সঙ্গে ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।
মুম্বইয়ে ভন্সালীর সেটে দুর্ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর, প্রশ্ন উঠেছে রাহুলের মৃত্যুতদন্ত নিয়ে। কোথায় দাঁড়িয়ে টালিগঞ্জের অভিনেতার মৃত্যুতদন্ত? নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক লালবাজারের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, তিনি এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে রাহুলের ঘটনার পরে অনেকেই সাহায্য চেয়েছিলেন তদন্তপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি কী ভাবে হবে, তা নিয়ে? আমি যতটা পেরেছিলাম সাহায্য করেছিলাম সেই সময়।
রাজ্যে পালাবদলের পরে আশার আলো দেখছেন অনেকেই। আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল বললেন, “রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর করেছিলাম আমরা। তার পরে আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী, তালসারিতে প্রিয়াঙ্কার করা এফআইআর-এর সঙ্গে তা জুড়ে দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়েছিল ১৩ দিন পুলিশ কিছু করতে পারবে না, এলাকায় কোনও একটা পার্বণ আছে। কিছু দিন কাটার পরে ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ওড়িশা সরকারের কাছে একটি আবেদন করেছিল। তার পরে ওরা সেই আবেদন জানায় প্রধানমন্ত্রীর অফিসে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ওড়িশা সরকারের কাছে এই তদন্ত তাড়াতাড়ি করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও এই তদন্ত সিআইডি’র হাতে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমরাও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছি যাতে এই তদন্তের অগ্রগতি তাড়াতাড়ি হয়।”
রাহুলের মৃত্যু তদন্তের অগ্রগতি কি হল? ছবি: সংগৃহীত।
রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুতে রাতারাতি বন্ধ হয়ে যায় দু’টি ধারাবাহিক— ‘চিরসখা’, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’। উক্ত দুই ধারাবাহিকের একটির শুটিং করতে গিয়েই মৃত্যু হয় অভিনেতার। এই দুই মেগার প্রযোজনার দায়িত্বে ছিল ‘ম্যাজিক মোমেন্ট্স’। রাহুলের সহ-অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অম্বরীশ ভট্টাচার্যের মতে, দ্রুত অভিনেতার মৃত্যুতদন্তের কিনারা হওয়া প্রয়োজন।
তালসারিতে রাহুলের সঙ্গে শুটিং করতে গিয়েছিলেন ভাস্কর এবং অম্বরীশও। কিন্তু দুর্ঘটনার আগেই তাঁরা কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। ভাস্কর বললেন, “এই তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে, সেই বিষয়ে কিছুই জানি না। পুরো অন্ধকারে আছি। তদন্ত চলছে বলে শুনছি। কবে কিনারা হবে সেটা জানি না। আমাদের তো হাতে নেই কিছু। আড়াই-তিন মাস হয়ে গেল, কোনও খবর পেলাম না, খারাপ লাগছে।” তবে অম্বরীশ আশাবাদী। তাঁর মতে, সময় যতই লাগুক, হাল ছাড়া কখনওই উচিত নয়। অভিনেতা বললেন, “তাড়াহুড়ো করে কোনও তদন্ত হওয়ার থেকে, সময় নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যত ক্ষণ না তদন্তের কিনারা হবে আমরা ছেড়ে দেব না। উচ্চমহলে এই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি।”
রাহুলের পরিবারের সঙ্গে নিশ্চয়ই পুলিশ যোগাযোগ রেখেছে, জানালেন রূপাঞ্জনা। ছবি: ফেসবুক।
রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত যাতে হয়, সেই দাবি জানিয়ে কলকাতার পথে নেমেছিলেন বহু শিল্পী। তাঁদের মধ্যে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র অন্যতম। এই প্রেক্ষিতে রূপাঞ্জনার উত্তর, “আমরাও জানতে চাইছি তদন্তের অগ্রগতি কতদূর হল? রাহুলের পরিবারের এই বিষয়ে জানা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ওই পরিবারের সঙ্গে পুলিশ নিশ্চয় যোগাযোগ রাখছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও নিশ্চয় জানতে পারব।” সবকিছুর পরে শিল্পীরা সরকারের সিদ্ধান্তের উপরেই ভরসা রাখছেন।