ভবিষ্যতে সঙ্গীত নিয়ে কী পরিকল্পনা প্রীতমের? ছবি: সংগৃহীত।
বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিংহ ঘোষণা করেছিলেন, ছবিতে আর প্লেব্যাক গাইবেন না। সেই পথেই কি হাঁটছেন সঙ্গীত পরিচালক প্রীতম চক্রবর্তী? তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। ১৪ জুন ছিল তাঁর জন্মদিন। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন প্রীতম। সেই পোস্ট দেখেই অনুরাগীরা মনে করেছিলেন, সঙ্গীত পরিচালকও এ বার মূল ধারার সঙ্গীতসফর শেষ করতে চলেছেন। কিন্তু সত্যিটা কী?
জন্মদিনে বিভিন্ন মানুষের শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছিলেন প্রীতম। এই জন্মদিনে নিজেকে কী উপহার দিয়েছেন, সেটা পোস্টে জানান প্রীতম। উপহার হিসাবে নিজেকে নিজের জীবনটা ভাল করে উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন তিনি। প্রীতম লিখেছিলেন, ‘‘সকলের ভালবাসা পেয়ে আপ্লুত। জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি। তাই এই জন্মদিনে নিজেকে কিছু উপহার দিতে চাই। নতুন একটা সফর শুরু করার সময় এসেছে। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম, এই সিদ্ধান্তটা নেব। মূলধারার রাস্তাটা খুবই ভাল। তবে অপ্রত্যাশিত অজানা রাস্তায় হাঁটতে সব সময়ে অন্যরকম লাগে।’’
এর পরেই জল্পনা তৈরি হয়, মূলধারার সঙ্গীতজগৎ থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি। এই বিষয়ে সঙ্গীত পরিচালকের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “প্রীতম মোটেই সঙ্গীতজগৎ ছাড়ছেন না। তিনি অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাবেন। তাঁর পোস্টে তিনি শুধু বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর আরও কিছু আগ্রহের ক্ষেত্র রয়েছে। সেই ক্ষেত্রগুলিকে এ বার তিনি এখন গুরুত্ব দিতে চান। এর মানে এই নয় যে, তিনি চিরদিনের জন্য সঙ্গীতজগৎ ছেড়ে দিচ্ছেন।”
কিছু দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রীতম খোলাখুলি জানিয়েছিলেন, কেন অরিজিৎ প্লেব্যাক গাওয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দিনের কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তিই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ, এমনই দাবি প্রীতমের। পর পর বাণিজ্যিক ছবিতে গান গাওয়ার প্রস্তাব আসছিল তাঁর কাছে। হাঁপিয়ে উঠছিলেন অরিজিৎ, জানান প্রীতম। তাই একসময় অরিজিৎ নাকি বলেছিলেন, “আমি আর গান গাইতেই চাই না।”
প্রীতম সেই সাক্ষাৎকারে আরও জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেও গত এক বছর ধরে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছিলেন। মজার ছলে তিনি অরিজিৎকে এক দিন বলেছিলেন, অবসর নিলে দু’জনে একসঙ্গে জিয়াগঞ্জ ও তারাপীঠে যাবেন। সেই কথার পরেই অরিজিৎ হঠাৎ প্লেব্যাক গাওয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন।