রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আর্টিস্ট ফোরাম। ছবি: ফেসবুক।
গত বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর বার্তা, টলিউডে ফেডারেশনের বদলে কনফেডারেশন আসবে। কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বাংলা বিনোদনদুনিয়া। থাকবে না ২৬টি গিল্ড। সাম্প্রতিক গুঞ্জন, এই পথে হেঁটে নাকি বিলুপ্ত হতে পারে আর্টিস্ট ফোরাম সংগঠনটিও!
কলাকুশলীদের ভালমন্দ দেখার জন্য যেমন ফেডারেশন এবং গিল্ডের জন্ম, তেমনই অভিনেতাদের জন্য তৈরি আর্টিস্ট ফোরাম। সেখানে অভিনেতাদের সুখ-সুবিধা নিয়ে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই ভাবে সমস্যা তৈরি হলে তার সমাধানও খোঁজা হয়। যেমন, তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এই সংগঠন।
আর্টিস্ট ফোরাম যদি ভেঙে যায়, তা হলে অভিনেতারা যাবেন কোথায়? কারণ, বহু বছর ধরে তাঁদের মাথার উপর ছাতা হয়ে রয়েছে সংগঠনটি। যার সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন টলিউডের খ্যাতনামীরা। এই প্রশ্ন নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল ফোরামের সহকারী সম্পাদক দেবদূত ঘোষের সঙ্গে। প্রশ্ন শুনে জোরে হেসে ওঠেন তিনি। তাঁর কথায়, “এ রকম গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে যথেষ্ট কারণ আছে। শুনেছি, সংগঠনটিকে ঘিরে নাকি অনেকেরই ক্ষোভ রয়েছে।” তবে এ রকম যে কিছুই হচ্ছে না, সে ব্যাপারেও আশ্বস্ত করেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।
প্রযোজক-কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে অসহযোগিতা প্রসঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন লীনার পুত্র প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরাম হঠাৎ করে ‘এক পরিবার’! দুটো আলাদা বিষয়ের সংগঠন কী করে এ ভাবে জোট বাঁধতে পারে? তিনি ইতিমধ্যেই ফোরামের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আইনি পদক্ষেপ করেছেন। আর্টিস্ট ফোরাম বিষয়টিতে কী পদক্ষেপ করছে? প্রশ্নের জবাবে দেবদূত বলেন, “আইনি পদক্ষেপের উত্তর আইনি ভাবেই দেওয়া হবে। এর বেশি আপাতত আর কিছু বলতে পারব না।”
তবে রাহুলের পাশে, তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার পাশে এবং গোটা পরিবারের পাশে শেষ দিন পর্যন্ত আর্টিস্ট ফোরাম থাকবে, কথা দেন দেবদূত। বলেন, “আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। মানসিক, শারীরিক এবং আইনি ভাবে প্রিয়াঙ্কার পাশে আছি সবাই। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সন্তান সহজকে ওর বাবার মৃত্যুর কারণ জানানোর নৈতিক দায় আমাদের। শুনেছি, ওকে নানা ভাবে বাবার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।”
অতীতে ফ্রেমবন্দি রাহুল-সহজ-প্রিয়াঙ্কা। ছবি: ফেসবুক।
মার্চ থেকে জুন। চলতি মাসের শেষে রাহুলের মৃত্যুর তিন মাস সম্পূর্ণ হবে। অথচ মীমাংসা এখনও অধরা! আর্টিস্ট ফোরাম বিষয়টিকে কী ভাবে দেখছে? দেবদূতের কথায়, “আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা সময়সাপেক্ষ। তাই ধৈর্য ধরতে হবে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার দেশের আইনের উপরে ভরসা আছে।” বিষয়টি নিয়ে কি নতুন রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হবে ফোরাম? সংগঠনের সহকারী সম্পাদকের যুক্তি, মন্ত্রীদের নাম ঘোষিত হলেও দফতর বণ্টন হয়নি। ফলে, কার সঙ্গে রাহুলের মৃত্যুসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে, বুঝতে পারছে না সংগঠন।