Devoleena Bhattacharjee

‘মাকে খাবারে ওষুধ মিশিয়েও খাইয়েছি, বাবা মারা যাওয়ার পরে সব বদলে যায়’, লড়াই নিয়ে বললেন দেবলীনা

অভিনেত্রী জানান, মায়ের অসুস্থতার কারণে খুব ছোট থেকেই তাঁকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। দেবলীনা তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ২১:২৮
Share:

কেন মায়ের খাবারে ওষুধ মেশাতেন দেবলীনা? ছবি: সংগৃহীত।

খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য। তিন সন্তানকে একা হাতে বড় করেছেন তাঁদের মা। কিন্তু সেই মাকেই খাবারে ওষুধ মিশিয়েও খাওয়াতে হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সে সব কথা উজাড় করে দিলেন দেবলীনা। জানালেন, কোন লড়াইয়ের মধ্যে তিনি বড় হয়েছেন।

Advertisement

অভিনেত্রী জানান, মায়ের অসুস্থতার কারণে খুব ছোট বয়স থেকেই তাঁকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। দেবলীনা তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। সেই সময় তাঁর মা স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। যখনই অসুস্থতা বাড়ত তখন দেবলীনা একাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। কেউ পাশে না থাকায় সবকিছু তাঁকে নিজেকেই শিখতে হয়েছে বলে জানান তিনি। মায়ের ওষুধ সময়মতো খাওয়ানো থেকে শুরু করে, মা যখন ওষুধ খেতে চাইতেন না তখন খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া— এই সবকিছুই তিনি খুব অল্প বয়সেই শিখে নেন।

মায়ের জীবনও খুব মসৃণ ছিল না। স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেবলীনা বলেন, “আপনি যদি আমার মায়ের জীবন দেখেন, তা হলে বুঝবেন একজন একা নারী কত কিছু করতে পারেন। আমার মায়ের অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা আছে। বিশেষ করে আমার বাবা বহু বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকে তাঁর নানা অসুস্থতা তৈরি হয়েছে।”

Advertisement

তিনি আরও বলেন, “আমার মা দিনে অন্তত ১৮ থেকে ১৯টা ওষুধ খান। তাঁর ডায়াবিটিস আছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, থাইরয়েড আছে, সেই সঙ্গে কিছুটা স্কিৎজ়োফ্রেনিয়াতেও আক্রান্ত। স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া মানে এক ধরনের বিভ্রম। রোগী মনে করে কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা কাউকে দেখি না, কিন্তু তারা মনে করে কেউ আছে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলছে।” শুরুর দিকে তাঁর মা ওষুধ খেতে চাইতেন না। তাই কখনও কখনও তাঁকে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দিতেন বলে জানান দেবলীনা। অভিনেত্রীর কথায়, “যখন পাশে কেউ থাকে না, তখন আপনাকে নিজেকেই বড় হতে হয়। খুব অল্প বয়সেই আপনি বুদ্ধিমান ও পরিণত হয়ে যান।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement