Rituparna Sengupta On Election Memory

ভোটের সেই নীল কালির দাগ আমাকে খুব আকর্ষণ করত, মনে হত কত তাড়াতাড়ি বড় হব আমি: ঋতুপর্ণা

এক ভোট নিয়ে আসে আরও বহু ভোটের স্মৃতি। সে সব সময়, সে সময়ের রাজনীতি কেমন ছিল? পুরনো সে সব ভোটের কথা ফিরে এল তারকার কলমে।

Advertisement

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৬
Share:

ভোটের স্মৃতি ফিরে এল তারকার কলমে। ছবি: সংগৃহীত।

আদ্যোপান্ত দক্ষিণ কলকাতায় বড় হয়েছি আমি। আমাদের কাছে নির্বাচন যত না উৎসবের ছিল, তার চেয়েও বেশি ভারিক্কি একটা ব্যাপার ছিল। সারা বছর একরকম রূপ দেখতাম আমাদের পাড়ার। আর ভোটের দিন এলে পুরো চেহারা বদলে যেত পাড়ার। পুরো শুনসান। রাস্তায় হাতে গোনা লোক দেখা যেত। এটা ছিল আমার ছোটবেলা। এখনকার সঙ্গে মিল খুঁজতে গেলে তা পাওয়া অসম্ভব।

Advertisement

ছোটবেলায় খালি মনে হত, ভোট দিলেই বড় হয়ে যাব। মা-বাবা, কাকারা যেতেন। দেখে মনে মনে যা ইচ্ছা হত! বিশেষত ভোট দিলে আঙুলে যে নীল রঙের কালি লাগিয়ে দেয়, সেটাই বেশি আকর্ষণ করত। মনে হত, ইশ, কবে যে এই কালিটা আমার আঙুলে লাগবে। তখন তো সমাজমাধ্যমের তেমন কোনও অস্তিত্ব ছিল না। সবটাই ছিল খবরের কাগজের পাতায়। তাই নির্বাচনের আগে খবরের কাগজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। বাবাকে দেখতাম সকাল থেকে খুঁটিয়ে কাগজ পড়তেন। কোথায় কী হচ্ছে, কী লেখা হল— সবটা।

ঋতুপর্ণার ছোটবেলায় নির্বাচনের পরিবেশ কেমন ছিল? ছবি: সংগৃহীত।

বাবা-কাকাদের মধ্যে রাতের খাবার টেবিলে তা নিয়ে চলত জোর আলোচনাও। পাড়াতেও সেই আলোচনা হতে দেখেছি। কত সময় আবার তর্ক-বিতর্ক হয়ে যেত। পাড়ায় মিছিল বেরোলে বুঝতে পারতাম আর হয়তো খুব বেশি দিন নেই। প্রথম যে বছরে ভোট দিতে যাই, ভীষণ আনন্দ হয়েছিল।

Advertisement

মনে হয়েছিল, অনেকটা বড় হয়ে গেলাম। এ বার আমার আঙুলেও সেই নীল কালি দেখতে পাব। অবশ্য এটাও উপলব্ধি করেছিলাম, নির্বাচন দেওয়া একটা বড় দায়িত্ব। ভোট দেওয়ার পরে মনে হয়েছিল আমারও অধিকার রয়েছে। আমিও যে অন্যতম নির্ধারক সেই অনুভূতি কাজ করেছিল। আমি যদিও গার্লস কলেজে পড়েছি। কিন্তু সেখানেও বন্ধুদের মধ্যে ভালই আলোচনা চলত। এখনকার সঙ্গে কিন্তু আকাশ-পাতাল ফারাক ছিল নির্বাচনের পরিবেশের।

ভোট দেওয়ার আলাদা উত্তেজনা কাজ করত নায়িকার! ছবি: সংগৃহীত।

সবাই খুব গম্ভবীর ভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতেন। খবরের কাগজ পড়েই বুঝেছি বিভিন্ন দল হয়। তাদের মতামত হয়। আমাদের নাচের স্কুলেও খুব আলোচনা হত রাজনীতি, নির্বাচন নিয়ে। এই আলোচনা বরাবরই আমার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। সেই উত্তেজনা এখনও রয়েছে আমার মধ্যে। কী ফল হবে? এই প্রশ্ন তো সারা ক্ষণই ঘুরপাক খায়। এখনও একই অনুভূতি কাজ করে আমার। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে হোক, ভাল মতো মিটুক আপাতত আমি এটাই চাই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement