চেহারার গড়ন নিয়ে কী বললেন সমীরা? ছবি: সংগৃহীত।
গায়ের রঙের জন্য হীনম্মন্যতায় ভুগতেন সমীরা রেড্ডী। একসময় বলিউডে পর পর বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী। বরাবরই গায়ের রঙের জন্য তাঁকে অতিরিক্ত ফর্সা করানো হত প্রসাধনীর সাহায্যে, জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে সমীরা বলেন, “একজন অভিনেত্রী ও একজন মহিলা হিসাবে আমার সব সময় মনে হয়েছে, ফর্সা হতে হবে। কিছু অদ্ভুত কারণের জন্য সবাই আমার মুখে বেশি বেশি করে ফর্সা হওয়ার প্রসাধনী দিতেন। শরীরের রং ও ফর্সা করতে প্রসাধনী দিতে হত। এতে আমার সত্যিই সমস্যা হত।”
শুধু গায়ের রং নয়। তাঁর চেহারার গ়়ড়নকেও যথাযথ মনে করা হত না। অতীত মনে করে সমীরা বলেছেন, “আমাকে সব সময়ই এমন ভাবানো হত, যেন আমি যথেষ্ট রোগা নই। আমি দীর্ঘাঙ্গী। তাই আমাকে বলা হত, আমি নাকি খুব বেশিই লম্বা আর চওড়া। কেরিয়ারের শুরুর দিকে এই কথাগুলো কোথাও না কোথাও আমার মনে থেকে গিয়েছিল।” বার বার তাঁর চেহারার গড়ন নিয়ে এমন আলোচনা হয়েছে, জানান সমীরা। তাঁর কথায়, “আলোচনা হয়েছে আমার গড়ন নিয়ে, অথচ হওয়া উচিত ছিল আমার প্রতিভা, অভিনয় এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে। আজ পিছনে তাকিয়ে দেখি এবং ভাবি, কেন তখন এ সব হতে দিয়েছিলাম? তা আমি নিজেও জানি না। কিন্তু তখন ইন্ডাস্ট্রির নিয়মটাই এমন ছিল।”
মা হওয়ার পরেও নানা কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। সমীরা বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল, ‘তুমি এখন একজন মা, তোমার ওজন বেড়েছে, চুলে পাক ধরেছে। তুমি আর এই জগতে ফিরে আসতে পারবে না। মানুষ তোমাকে গ্রহণ করবে না।’ আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিইনি। বরং ভেবেছিলাম, ‘ঠিকই আছে, আমি নিজের একটা জায়গা তৈরি করব। সেই জায়গা ভাল লাগলে, কেউ থাকবে। না ভাল লাগলে বেরিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, সমীরা ২০০২ সালে ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে সফর শুরু করেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সোহেল খান। ছবিটি বক্সঅফিসে মাঝারি সাফল্য পেয়েছিল। এ ছাড়াও ‘ডরনা মানা হ্যায়’, ‘মুসাফির’এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।