জাহ্নবীর ‘শরীর প্রদর্শন’ নিয়ে কী মত অন্য অভিনেত্রীদের? ছবি: সংগৃহীত।
‘পিদ্দী’ ছবিতে চরিত্রের থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর শরীর। জাহ্নবী কপূরের অনুরাগীরা এই অভিযোগ তুলছিলেন। অভিনেত্রী নিজেও যে সেটাই মনে করেন, তা প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস হওয়ার পরে। ক্যামেরার মাধ্যমে তাঁকে যে ভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে অসন্তুষ্ট জাহ্নবী। ‘দক্ষিণের ছবিতে মহিলাদের শরীরই প্রাধান্য পায়’, এমন প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে জাহ্নবীর। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন অন্য অভিনেতারাও।
৮০-র দশকের অভিনেত্রী অনু অগরওয়ালও ‘পিদ্দী’ নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই বিতর্ক তাঁকে নিজের এক সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। অনু ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “এক জন মহিলাকে কী ভাবে পর্দায় তুলে ধরা হবে, সেই বিষয়ে আজকের দর্শক সরব হন। তাই আজকের দর্শকের জন্য করতালি দিতে ইচ্ছে করে। তবে সব দায়িত্ব শুধু দর্শকের নয়, নির্মাতাদেরও নয়। অভিনেতাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে।”
অনু তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “৩০ বছর আগে ‘আশিকী’ মুক্তির পরে আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ছবির চুক্তিতে সই করার আগে আমি চিত্রনাট্য ভাল করে পড়ে নিতাম। মহিলাদের পণ্যের মতো করে দেখানো নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। আমি সেই নিয়মের বিরোধিতা করেছিলাম। এই কারণেই আমি অভিনয় থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাই।” তাই এই যুগের অভিনেত্রীদেরও আগে ছবির গল্প ভাল করে জানার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী। প্রয়োজনে ‘না’ বলার ক্ষমতা রাখতে হবে, এও বলেছেন অনু।
কন্নড় অভিনেত্রী আশিকা রঙ্গনাথও জাহ্নবীর পক্ষ নিয়েছেন। অনেকেই জাহ্নবীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে আশিকা বলেছেন, “অভিনেত্রীকে দোষারোপ করবেন না। যে নির্মাতারা ভাবেন, শরীর প্রদর্শনে টিকিট বেশি বিক্রি হবে, তাঁদের দোষ দিন। বড় মাপের ছবিতে কাজ করে ব়়ড় সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছোতে চান অভিনেতারা। কোনও অভিনেত্রীর যদি মনে হয়, তাঁর চরিত্রের কোনও গুরুত্বই নেই, তা হলে সেই দোষ নির্মাতাদের।”
দক্ষিণী অভিনেত্রী নিত্যা মেনেনও মুখ খুলেছেন। তিনি দক্ষিণের চলচ্চিত্র জগতের পক্ষে। তাঁর বক্তব্য, “চলচ্চিত্রের পুরোমাত্রায় বাণিজ্যিকীকরণ হওয়ার ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।” অভিনেতাদেরও নিজেদের চারপাশে গণ্ডি কেটে রাখা উচিত বলে মত তাঁর। তিনি বলেছেন, “যিনি অভিনয় করছেন, তাঁর কোনও কিছু নিয়ে অস্বস্তি হল, সেটা বলার যেন ক্ষমতা থাকে।”
তবে এখানেই শেষ নয়। জাহ্নবীকে কটাক্ষও করেছেন নিত্যা। বছরের পর বছর ধরে একই রকমের ছবি করার পরে হঠাৎ প্রতিবাদ করলে কেউ গুরুত্ব দেয় না। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অবশ্য সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি জাহ্নবী নিজে।