কোন পরিস্থিতির কথা ভাগ করে নিলেন বাঁধন? ছবি: সংগৃহীত।
অনেক ওঠা-পড়ার মধ্যে দিয়ে সময় কেটেছে তাঁর। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বহু বার নিজের অতীত নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। কখনও রাখঢাক করেননি। সাংসারিক জীবনে অশান্তি থেকে গার্হস্থ্য হিংসা— এ সব নিয়ে অনেক বার আলোচনায় উঠে এসেছে বাঁধনের নাম। একটা সময়ে নাকি নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি কোন ঘটনার কথা উল্লেখ করলেন অভিনেত্রী?
বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় যোগ দেন বাঁধন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার আগের পরিস্থিতির কথাই তুলে ধরলেন ও-পার বাংলার নায়িকা। তিনি বললেন, “প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার আগে আমি তো রিহ্যাব সেন্টারে ছিলাম। তিন-চার বার আমাকে রিহ্যাব সেন্টারে যেতে হয়েছিল। খুবই অবসাদে ছিলাম। আত্মহননের প্রবণতা ছিল। অনেক বার চেষ্টাও করেছি আত্মহত্যার। তাই বার বার রিহ্যাব-এ ভর্তি করানো হয়েছিল।”
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার আগে কোন পরিস্থিতিতে ছিলেন? ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেত্রী সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার কারণও জানান। তিনি বলেন, “হুমায়ুন আহমেদের আমি ভক্ত। ভেবেছিলাম ওঁকে আমার জীবনের গল্প বলে মরে যাব। তাই ওই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিলাম।” প্রসঙ্গত, অভিনেত্রীর বিবাহিত জীবন মোটেই সুখের ছিল না। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “দ্বিতীয় বিচ্ছেদের পর নিজেকে শুধু ব্যর্থই মনে হয়নি, সমাজ আমাকে চিহ্নিত করতে শুরু করে একজন ‘খারাপ নারী’ হিসাবে। আর সেটাই আমাকে ভেঙে দেয়। তখন থেকে নিজের অধিকার নিয়ে লড়াই শুরু হয়। ‘পারফেক্ট’ হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছিলাম।” তাই মনেপ্রাণে ‘ভাল মেয়ে’ হওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছিলেন। মা-বাবার কথামতো জামাকাপড় পরতেন। তিনি বলেন, “সে সময়ে আমি জিন্স পরতাম। খোলামেলা পোশাক পরতাম। তা নিয়েও খোঁটা শুনতে হয়েছে আমাকে।”
এত ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কারও কথায় তিনি কোনও পরোয়া করেন না। তিনি নিজের মতো করে বাঁচেন। তাতে যদি কেউ তাঁকে খারাপ মনে করেন, তাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “জীবনের সব সিদ্ধান্ত যখন একার, সে ক্ষেত্রে কী করব, কী পরব সবটাই আমি ঠিক করব। এই ধরনের ভাবনার কথা শুনলে ঘৃণা হয়। এটাই আমাদের নারীদের বাস্তবতা।”