TRP Rating

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ টিআরপি! আদতে কি লাভই হল? কী বলছে টেলিপাড়া?

প্রতি বৃহস্পতিবার টিআরপি-র অপেক্ষায় থাকেন টেলিভিশনের পরিচালক-প্রযোজক, অভিনেতারা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশে আপাতত আসবে না টিআরপি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৪
Share:

টিআরপি না থাকলে প্রভাব পড়বে টেলিশিল্পীদের উপরে? প্রতীকী ছবি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে ‘ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল’-কে (বার্ক) অনির্দিষ্টকালের জন্য খবর এবং অন্য যে কোনও ধরনের অনুষ্ঠানের টিআরপি প্রকাশ না-করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ক-এর লাইসেন্স নবীকরণ যত ক্ষণ না হচ্ছে এবং যত দিন না ২০২৬ সালের টেলিভিশন রেটিংস নীতির সব শর্ত পুরোপুরি মানা হচ্ছে, তত দিন টিআরপি প্রকাশ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বৃহস্পতিবার টিআরপি-র অপেক্ষায় থাকেন টেলিভিশনের পরিচালক-প্রযোজক, অভিনেতারা। এই নির্দেশের পরে কী বলছে টেলিপাড়া?

Advertisement

টিআরপি-র উপরে অনেক সময়েই ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। নম্বর কম হওয়ার কারণে অনেক কাহিনিই তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আবার কিছু ধারাবাহিক টিআরপি-র জোরেই বছরের পর বছর ধরে সম্প্রচারিত হতে থাকে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য টিআরপি না-আসার নির্দেশ কী প্রভাব ফেলবে? এই প্রেক্ষিতে ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ ধারাবাহিকের নায়িকা স্বস্তিকা দত্ত বললেন, ‘‘টিআরপি এলেও ভাল, না-এলেও ভাল। এটা শুধুই নম্বর বলে মনে হয় আমার। এই নিয়ে আট নম্বর ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। একসময় স্নেহাশিস চক্রবর্তী প্রযোজিত ধারাবাহিকে ১২ টিআরপি-ও দেখেছি। আবার এখন যখন টিআরপি কমের দিকে, তখনও আমাদের ধারাবাহিক ৮ এনেছিল। শিল্পী হিসাবে মনে হয় কলাকুশলীদের প্রচেষ্টা নম্বরে বেঁধে দেওয়া যায় না। টিআরপি এলে বোঝা যায় দর্শক কী চাইছে, কী চাইছে না। আমার কাজে অন্তত এই নম্বর আসা, না-আসা প্রভাব ফেলবে না, এটা বলতে পারি।’’

Advertisement

প্রযোজক স্নিগ্ধা দে-র মতে, এটা অনেকটা পরীক্ষার ফলপ্রকাশের মতো। তিনি বলেন, ‘‘যেন মনে হচ্ছে পরীক্ষা দিচ্ছি, কিন্তু ফলপ্রকাশ হল না। টিআরপি আসা তো অনেক দিনের অভ্যাস। অনেক বছর আগে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেটা এক-দেড় মাসে ঠিকও হয়ে গিয়েছিল। টিআরপি-র কিছু ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক আছে। নম্বর কম থাকলে অনেক ভাল কাহিনি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আবার এই নম্বর না-আসার ফলে এটাও বোঝা কঠিন হল যে, কতটা উন্নতি হচ্ছে বা হচ্ছে না। একপ্রকার খারাপই লাগছে নম্বর না-আসায়।’’

টিআরপি-র ওঠা-পড়া শিল্পীদের কাছে নতুন কিছু নয়। একাংশের মতে, এই নম্বরকে গুরুত্ব দিলে কাজে মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। যেমন অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু বললেন, ‘‘টিআরপি মূলত তো প্রতিযোগিতার বিষয়। চ্যানেলগুলোর রেষারেষির বিষয়। নম্বর কম-বেশি হলে নতুন প্রজেক্ট নিয়ে চলে আসে। ‘গানের ওপারে’র মতো ধারাবাহিকের তো টিআরপি কম ছিল। নম্বর আসবে না, এটা জানার পরে কী ভাবে প্রতিযোগিতা চলবে, সেটাই এখন দেখার। আমার উপরে কিন্তু কোনও প্রভাব পড়বে না, এটা বলতে পারি।”

কিন্তু অনেক টেকনিশিয়ানের মনখারাপ এই খবরে। কারণ, প্রতি সপ্তাহের নম্বর তাঁদের কাজে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। ভাল নম্বর হলে বাড়তি উৎসাহ দেয়। নম্বর কমে গেলে নতুন ভাবে কাজ সাজাতে সাহায্য করে। পরিচালক সুকমল নাথের মতে, এত দিন নম্বরের কথা ভেবে বুধবার রাত থেকে সবাই চিন্তায় থাকতেন। টিআরপি কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বীকৃতির প্রতীক, এমনটাই মনে করেন পরিচালক। তবে তাঁর আশা, ফলপ্রকাশ খুব বেশি দিন বন্ধ থাকবে না। শীঘ্রই আবার টিআরপি আসবে বলেই মনে করছেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement