সন্তানদের সঙ্গে ফরাহ খান। ছবি: সংগৃহীত।
২০০৪ সালে শিরীষ কুন্দরকে বিয়ে করেছিলেন ফরাহ খান। ২০০৮ সালে আইভিএফ-এর সাহায্যে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। তবে তার আগে আরও দু’বার আইভিএফ-এর মাধ্যমেই মা হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ফরাহ। পরিচালক তথা নৃত্যপ্রশিক্ষক বলেন, “আইভিএফ পদ্ধতিতে আমি দু’বার ব্যর্থ হয়েছি। তখন খুব কাঁদতাম। কেঁদেই দিন কেটে যেত। হরমোনের সমস্যার জন্য আরও বেশি কান্না পেত। তখন ‘ওম শান্তি ওম’ ছবির শুটিং করছিলাম।” এখন তাঁর তিন ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। ফরাহ কখনও স্বপ্নেও ভাবেননি যে, একসঙ্গে তিন সন্তানের সুখ পাবেন।
ফরাহ বলেন, ‘‘আসলে আমি ৪২ বছর বয়সে আইভিএফ শুরু করি। এমনিতেই বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল। তাই ভাবিনি যে তিন সন্তানের জন্ম দিতে পারব। একটি সন্তানের আশাই করেছিলাম।’’ ৪৩-এ মা হন তিনি। বর্তমান সময়ে অনেক নায়িকাই মা হওয়ার মাসছয়েকের মধ্যে ওজন কমিয়ে একেবারে পুরনো চেহারায় ফিরে যান। তবে ফরাহের ক্ষেত্রে তেমন হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘সন্তানজন্মের পরে ওজন কমাতে আমার পাঁচ বছর লেগে যায়।’’ মা হিসাবে তিনি সব সময়ে কর্মব্যস্ত ছিলেন। ফরাহ জানান, তাঁর সংসারের অন্যতম ভিত হলেন তাঁর স্বামী শিরীষ। পরিচালক বলেন, ‘‘আমার স্বামীর জন্য আমার ছেলেমেয়েরা এত ভাল মানুষ হয়েছে। এত ভাল জায়গায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। আমার স্বামীই পুরো বাচ্চাদের দেখাশোনা করেছে।’’
গত তিন দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ মুখ ফরাহ। সহকারী পরিচালক এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবি দিয়ে পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে ‘ওম শান্তি ওম’, ‘তিস মার খান’, ‘নিউ ইয়ার’-এর মতো ছবি পরিচালনা করেন। সেই সঙ্গে নেটমাধ্যমেও তিনি সক্রিয়। এই মুহূর্তে ফরাহ ও তাঁর রাধুঁনি দিলীপের অনুষ্ঠান হিট্ নেটমহলে। ফরাহ জানান, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ তুলতেই নেটপ্রভাবী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।