প্রকাশ্যে ‘গুনগুন করে মহুয়া’ ছবির লুক। ছবি: সংগৃহীত।
পরনে সাদামাঠা শার্ট। সরু গোঁফ। বাঁ দিকে সিঁথি কাটা। ইনি মহুয়া রায়চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তকারী অফিসার আইপিএস নবীন চট্টোপাধ্যায়। রাজদীপ ঘোষ পরিচালিত ‘গুন গুন করে মহুয়া’ ছবিতে এমনই এক লুকে দেখা যাবে অভিনেতা গৌরব চক্রবর্তীকে। তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অলকনন্দা গুহ। ছবি প্রযোজনার দায়িত্বে রানা সরকার।
আগেও পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গৌরব। পর্দায় গৌরব আর পুলিশ ইদানীং যেন সমার্থক। সিরিজ় ‘পর্ণশবরীর শাপ’-সহ আরও অন্যান্য ছবিতে তিনি তদন্তকারী আধিকারিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে এমন সাদামাঠা লুকে নিজেকে দেখে নিজেও বেশ খুশি অভিনেতা। গৌরব বললেন, “১৯৮৫ সালের ঘটনা। সেই সময়কালকে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আগেও আমি পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিন্তু এই ছবির ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। একটা সময়কালকে ধরে কাজ করা হচ্ছে। তাই বাঁ দিকে সিঁথি, সরু গোঁফ— অন্য ভাবে আমাকে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সোমনাথদা (কুণ্ডু) এবং সাবর্ণীদির (দাস) কৃতিত্বই সব এ ক্ষেত্রে।”
তদন্তকারী অফিসারের চরিত্রে গৌরব, স্ত্রীর চরিত্রে অলোকনন্দা গুহ। নিজস্ব চিত্র।
১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই। সেই সময়ের সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, একমাত্র শিশুপুত্র তমালের দুধ গরম করতে গিয়ে পুড়ে মারা যান অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তখনও জনমানসে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। আজও আছে। খবর, সেই রহস্য নতুন করে উন্মোচিত হবে বড়পর্দায়। তাই এই ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ আসতেই হ্যাঁ করে দিয়েছিলেন গৌরব।
অভিনেতা যোগ করেন, “যে ঘটনার ভিত্তিতে আমাদের ছবি তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহল রয়েছে। বিপুল আলোচনা হয়েছিল। নতুন প্রজন্মের হয়তো ধারণা নেই কী ঘটেছিল? আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে চিত্রনাট্য। দুর্দান্ত চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। খুবই ভাল লেগেছে। যেমনটা লেখা হয়েছে, সেটা হুবহু বড়পর্দায় তুলে ধরা হয়ে দর্শকের ভাল লাগবে, আমার বিশ্বাস।”
প্রকাশ্যে শিল্পীদের লুক। নিজস্ব চিত্র।
গৌরব খুশি, যে তাঁকে এই চরিত্রের জন্য ভাবা হয়েছে। প্রযোজক বললেন, “এই ছবিতে মহুয়ার জীবনের দু’টি অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক দিকে তাঁর ছোটবেলা, বড় হয়ে ওঠা, নায়িকা হওয়া। অন্য দিকে মহুয়ার মৃত্যুরহস্য। পুলিশের তদন্ত। এই সবকিছু। এই প্রথম মহুয়ার ছবির লুক প্রকাশ্যে এল। এর আগে ছবির কোনও চরিত্রের লুকই প্রকাশ্যে আসেনি।”
মহুয়ার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়। সেই চরিত্রে দেখা যাবে গৌরবের অভিনেত্রী স্ত্রী ঋদ্ধিমা ঘোষকে। প্রসঙ্গত, ছবির শুটিং প্রায় শেষের পথে। সম্ভবত চলতি বছরেই মুক্তি পাবে মহুয়ার জীবনীচিত্র।