Updates Of Bidhan Sabha Election 2026

কারও বাড়িতে মাংস-ভাত, কেউ দেখলেন ‘সার্কাস’! ভোটের ছুটিতে কী করলেন টেলি অভিনেতারা?

রাজ্য জুড়ে দ্বিতীয় দফা ভোট। টালিগঞ্জে অঘোষিত ছুটি! একদিন অবসর মিলতেই নিজেদের মতো করে দিনলিপি সাজিয়ে ফেলেছেন ছোটপর্দার তারকারা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৭
Share:

‘ভোটপুজো’য় ছুটির মেজাজে টেলি তারকারা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চট করে ছুটি তো মেলে না! তাই পেলেই তার সদ্ব্যবহারে একটুও কার্পণ্য নেই। কেউ হাই তুলতে তুলতে ঘুম থেকে ওঠেন বেলা ১২টার পরে! কারও বাড়িতে বুথকর্মীদের জন্য মুরগির মাংস-ভাত রান্না। কেউ বা পুরনো পাড়ায় ভোট দিতে গিয়ে জমে যান আড্ডায়।

Advertisement

‘ভোট পুজো’য় ছুটি পেয়ে একদিনের দিনলিপি কী ভাবে সাজালেন ছোটপর্দার অভিনেতারা? তারই খোঁজে আনন্দবাজার ডট কম।

বিকেল চারটেয় ভোট দিতে যাবেন বাম সমর্থক অভিনেতা চন্দন সেন! অভিনেতার আশা, তাঁর ভোট কেউ দিয়ে দেবে না। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন তিনি। এ দিন কি বুথে বসার দিন? প্রশ্ন করতেই জবাব এল, “না না, ও সবে থাকি না। একদিন ছুটি। সারা দিন ধরে ‘সার্কাস’ দেখার দিন। টেলিভিশনে সেটাই দেখছি।” আর খাওয়াদাওয়া? বাড়িতে মুরগির পাতলা ঝোল আর ভাত? “এই গরমে শুক্তো-ভাত, টকদই খাওয়া উচিত। তাতেই সুস্থ থাকব। আবার তো রাত পোহালে শুটিং। শরীর ঠিক রাখতে হবে”, বললেন চন্দন।

Advertisement

চন্দনের ঠিক উল্টো মানালি দে। লম্বা বিরতির পর তিনি আবার ছোটপর্দায়। ধারাবাহিক ‘সংকীর্তন’-এর নায়িকা তিনি। ছুটির কথা উঠতেই কলকলিয়ে উঠলেন মানালি। বললেন, “বাবার বাড়িতে আমার ভোট। কসবা কেন্দ্র। সকাল সকাল চলে এসেছি। ছোটবেলার মতো বাবার সঙ্গে গিয়ে ভোট দিয়ে এলাম।” তার পরেই তিনি ‘বাঁধনছাড়া’। পাড়ায় ছোটবেলার বন্ধুরা একজোট। তাঁদের সঙ্গে অনেক দিন পরে চুটিয়ে আড্ডা দেবেন। “মেয়ে বাবার কাছে এলে যা হয়। মাংস-ভাত রান্না হয়েছে। আজ চেটেপুটে খাব”, হাসতে হাসতে বললেন অভিনেত্রী।

ধারাবাহিক ‘পরশুরাম: আজকের নায়ক’ আর ইন্দ্রজিৎ বসু যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তিনি কিন্তু ছুটির দিনেই কব্জি ডুবিয়ে খাওয়ার পক্ষপাতী নন! তার যুক্তিও দিয়েছেন। বলেছেন, “আমি খুবই পেটুক। একদিন পেটপুরে খেয়ে নিজেকে সামলাতে পারি না। রোজই খেতে থাকি।” ওজন বে়ড়ে যাওয়ার ভয়ে তাই সারা বছরই তিনি সংযমী! তবে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে এ দিন তিনিও আড্ডা দেবেন। ইন্দ্রজিতের রসিকতা, “বাড়ি থেকে বেরোই ভোরে। ফিরি মাঝ রাতে। কোনও ভদ্রলোক তো এই সময় বাড়িতে ঢোকে-বেরোয় না! তাই আমার সঙ্গে কারও দেখাও হয় না। একমাত্র ছুটির দিন ছাড়া।” এ ছাড়া, নিজের ব্যবসায়িক কিছু কাজকর্ম আছে। সে সবও সামলাবেন তিনি।

তৃণা সাহা কিন্তু ছুটির দিন জমিয়ে উপভোগ করছেন। রোজ ভোরে স্টুডিয়ো ছুটতে হয়। এ দিন তাঁর ঘুম ভাঙতে ভাঙতে ঘড়ির কাঁটা বেলা ১২টা ছুঁয়েছে। নিজেকে গুছিয়ে তার পর বাকি কাজ তাঁর।

রাহুল মজুমদার। ধারাবাহিক ‘সাত পাকে বাঁধা’র নায়ক। তাঁর কপালে এত সুখ নেই। “মেয়ে ঘুমোতে গেল ভোর চারটের সময়ে। তার পর ছুটি পেলাম।” সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমিয়েই খুশি থাকতে হয়েছে। কারণ, স্ত্রী প্রীতির ভোট বেহালায়। ওখানেই তাঁর বাবার বাড়ি। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে তাঁরা দমদম ক্যান্টনমেন্টে, রাহুলের বাড়িতে। পাড়ায় পা দেওয়া মানেই যেন ছোটবেলা ফিরে পাওয়া, জানালেন ছোটপর্দার নায়ক। আড্ডা, খাওয়াদাওয়া আর বাড়ির সকলের সঙ্গে সময় কাটানোতেই দিন শেষ। তাঁর পাড়ায় কখনও ভোটে অশান্তি হয় না। “উৎসবের আবহে এখানে ভোট হয়। আমরা গোটা দিন উপভোগ করি।” বাড়িতে আসা প্রসঙ্গে এ-ও বলেছেন, “শুটিংয়ের জন্য টালিগঞ্জে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই হয় না। তাই বাড়িতে এলে মা আনন্দের চোটে মালপোয়া বানায়। এ বার নাতনি আছে। মা-বাবা হা-পিত্যেশ করে অপেক্ষায়।”

দেবদূত ঘোষ একসময় নিজেও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি কি বুথে বসেন? বাম সমর্থক অভিনেতা বললেন, “আমার বাড়ি দমদম ক্যান্টনমেন্ট। সকাল সকাল ভোট দিতে চলে এসেছি। আমাদের বাড়িতেই দলীয় কমরেডদের জন্য মুরগির ঝোল, ভাত, বেগুনভাজা রান্না হয়েছে। দুটো বুথে সেই রান্না পৌঁছে দিলাম। আমার দাদারা বুথে বসে।” দেবদূত জানিয়েছেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। ভোট দিয়ে এলাকাবাসী খুশি। দুপুরেই তিনি ফিরে এসেছেন টালিগঞ্জের বাড়িতে। ঘর, পার্টি এবং আর্টিস্ট ফোরামের সহকারী সম্পাদক হওয়ায় কিছু কাজ রয়েছে। সে সব সামলে দেবদূত সন্ধ্যা থেকে ডুব দেবেন ওয়েব প্ল্যাটফর্মে। দেখবেন পছন্দের সিরিজ়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement