টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় দেব। নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড কি দেব আর স্বরূপ বিশ্বাস— এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ল? টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’র নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগে উপস্থিত সাংসদ-অভিনেতা দেব। সেখানেই তিনি স্পষ্ট বললেন, ‘‘স্বরূপদার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রয়োজন নেই। ওঁর অনেক উপার্জন। তাই টেকনিশিয়ানদের প্রয়োজন উনি বুঝবেন না।’’
শনিবার সকাল থেকে সাজো সাজো রব স্টুডিয়ো চত্বরে। বেলা গড়াতেই টেকনিশিয়ানদের ভিড় বেড়েছে। যদিও অভিযোগ, শুক্রবার নাকি সমস্ত গিল্ড-এর সদস্যদের ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস নিজে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডে নাম নথিভুক্তকরণ প্রকল্পে যোগ না-দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ-ও নাকি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, যাঁরা যাবেন তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়া হতে পারে। আনন্দবাজার ডট কম-কে এর আগে স্বরূপ এ-ও বলেছিলেন, ‘‘আগের স্বাস্থ্যবিমায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ছিল।’’ এ দিন এই প্রসঙ্গেও জবাব দেন দেব। হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘আগের স্বাস্থ্যবিমাও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ও তিনিই করেছেন। স্বরূপদার দাদা অরূপ বিশ্বাস রাজ্য সরকারের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী। স্বরূপদা নিজেও সরকারের সঙ্গে যুক্ত। তার পরেও কী করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দা করছেন? ‘স্বাস্থ্যসাথী’কে খারাপ বলছেন?’’
দেব এ দিন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ফেডারেশন সভাপতিকেও। এ ব্যাপারে স্বরূপ আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, নাম নথিভুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকছেন না। তিনি এও বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আপনাদের আগেই যা বলার বলেছি। নতুন করে কিছু বলার নেই।’’
এ দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় 'স্বাস্থ্যসাথী' কার্ড করাতে আসেন পরিচালক অভিনেতা সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ, মঞ্চ-পর্দার বর্ষিয়ান অভিনেতা এবং আর্টিস ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ বহু খ্যাতনামী। প্রত্যেকে ধন্যবাদ জানান দেবকে। বলেন, "আর্টিস্ট ফোরাম মিলিয়ে ১১ হাজার টেকনিশিয়ান। বহু জনের স্বাস্থ্য বিমা নেই। তাঁরা এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন।"