অরিজিতের ঘোষণায় কী প্রতিক্রিয়া জিতের? ছবি: সংগৃহীত।
জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় বহু গান গেয়েছেন অরিজিৎ সিংহ। তার মধ্যে রয়েছে ‘তোর এক কথায়’-এর মতো বাংলা গান, আবার ‘খমোশিয়াঁ’-র মতো হিন্দি গানও রয়েছে। তাই অরিজিতের ঘোষণায় বাক্রূদ্ধ জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কেন এমন ঘোষণা করলেন অরিজিৎ? নিজের অনুমানের কথা জানালেন সঙ্গীত পরিচালক।
জিতের কথায়, “আমাদের দেশে শুধুই তো ছবির গান রয়েছে, এমন নয়। লোকগান, কীর্তন, রাগপ্রধান, গজ়ল— নানা দিক খোঁজার প্রচেষ্টা কমই করি আমরা। একজন শিল্পীর যদি মনে হয়, তিনি ছবির গান গাইবেন না। নন-ফিল্ম মিউজ়িকে মন দেবেন তা, করতেই পারেন। ওটাও আমাদের কাছে বড় পাওনা হবে।”
অরিজিতের কণ্ঠস্বর, গায়কি, উচ্চারণেরও ভক্ত জিৎ। দু’জনের যুগলবন্দিতে তৈরি হয়েছে বহু সফল গান। তাই কিছুটা মনখারাপ জিতের। তাঁর কথায়, “ওকে মিস করব বটেই। তবে একজন শিল্পীর নিজস্ব মতও থাকে। তাই ওকে ওঁর মতো করেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। এখন ও ছবি তৈরি করছে। ওর সব বিষয়ে জ্ঞানও আছে। ও গান নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ভালবাসে। প্রোগ্রামিং করে, সুর করে, নিশ্চয়ই নতুন কোনও বিষয় নিয়ে ও ভাবছে। কথা বললে জানতে পারব, আসলে কী ভাবছে ও।”
অরিজিৎ খুব সৃজনশীল মানুষ বলে মনে করেন জিৎ। এই ধরনের মানুষের নতুন কিছু খোঁজার চেষ্টা থাকে বলেও তাঁর মত। জিতের বক্তব্য, “ও হয়তো নতুন কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে, সেটা পাচ্ছে না। তাই নতুন করে খুঁজতে চাইছে। আমি যতটা চিনি অরিজিৎকে, ও খুবই সৎ এবং স্পষ্টবাদী। ও ভাল লাগা বা না লাগা, সবটাই স্পষ্ট করে বলে। তাই ও নতুন কোনও কাজ করতে চাইলে, আমি স্বাগত জানাচ্ছি। ও যা করবে, সেটা ভালই হবে।”
অরিজিতের সঙ্গে জিতের নানা রকমের অভিজ্ঞতা। মনে করে সঙ্গীত পরিচালক বলেন, “ও স্টুডিয়োতে এসে আগে গানের কথা পড়ে। তারপর সুর শোনে। কোন কথায় কতটা জোর দিতে হবে, সেটা অরিজিৎ খুব ভাল জানে। যেটা গানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রং তুলি নিয়ে শিল্পীর ছবি আঁকার সময় যেমন মোলায়েম টান আসে, অরিজিতের গানও ঠিক তেমন।”