সলমন খানের জীবনে কিসের অনিশ্চয়তা? ছবি: সংগৃহীত।
বর্তমানে সময় ভাল যাচ্ছে না সলমন খানের। শেষ কয়েকটি ছবি ভাল ফল করেনি বক্সঅফিসে। পাশাপাশি শারীরিক ব্যাধিও লেগেই রয়েছে। সেই সঙ্গে লরেন্স বিশ্নোইয়ের হুমকি তাঁর পিছু ছাড়ছে না। কিন্তু একটা সময়ে তাঁর দাপট ছিল বলিউডে। ভাইজানকে পথপ্রদর্শক মনে করতেন অভিনেতা পুলকিত সম্রাটও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তা নিয়েই কথা বললেন পুলকিত।
বলিউডে পা রাখার পর এক দশক কাটিয়ে ফেলেছেন পুলকিত। এই দীর্ঘ সময়ে অভিনেতার কাছে সলমন একজন পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি পুলকিত জানিয়েছেন, ২০১২ সালে তাঁর প্রথম ছবি ‘বিট্টু বস্’ মুক্তির আগে সলমন তাঁকে এমন একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন, যার গুরুত্ব এখনও তাঁর জীবনে অপরিসীম। সেই পরামর্শ সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। সাক্ষাৎকারে পুলকিত জানান, প্রথম ছবির মুক্তির আগে তিনি খুব চিন্তিত ছিলেন। দর্শক ছবিটিকে এবং তাঁর অভিনয়কে কী ভাবে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে ভয় কাজ করছিল।
সেই সময়ে সলমন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভাইজান নাকি বলেছিলেন, “পুলকিত, আমি হলাম সলমন খান। পরের শুক্রবার নিয়ে আমারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। আমার পরের ছবি ভাল হবে, এমন নিশ্চয়তা আমার কাছেও নেই। তা হলে তুমিই বা নিজেকে কী মনে করছ? এত চিন্তা করে তুমি কী পাবে?”
পুলকিত বলেন যে, সলমনের এই পরামর্শই তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, যদি সলমনের মতো এত বড় তারকাও নিজের পরবর্তী ছবির সাফল্য নিয়ে নিশ্চিত না-হতে পারেন, তা হলে তাঁরও নিজের ছবি নিয়ে চাপ নেওয়ার কোনও মানেই নেই।
চলচ্চিত্রের প্রতি সলমনের ভালবাসা ও নিষ্ঠার কথাও বলেন পুলকিত। তাঁর মতে, সলমনের জীবন শুধুই চলচ্চিত্রকে ঘিরে আবর্তিত হয়। পুলকিতের কথায়, “তিনি ২৪ ঘণ্টা সিনেমা নিয়েই ভাবেন। তাঁর ঘুম, খাওয়া— সব কিছুর মধ্যেই ছবি থাকে। কোনও দিন মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েও তিনি নিজের ছবির কথা ভাবেন। কোনও চরিত্রের জন্য সঠিক অভিনেতা খোঁজা হোক বা বড় কোনও লড়াইয়ে দৃশ্যের পরিকল্পনা, সব কিছু নিয়েই তিনি ভাবতে থাকেন।” ভাইজানের এই পরিশ্রম দেখে পুলকিতের উপলব্ধি, তারকার সাফল্যের অর্ধেকও পেতে হলে তাঁকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তিনি বলেন, “তার পর থেকে কঠোর পরিশ্রম আমার প্রতিদিনের রুটিনের অংশ হয়ে গিয়েছে।”
সলমনের বিনয়ী স্বভাব নিয়েও কথা বলেন পুলকিত। তাঁর মতে, কাছের মানুষদের প্রতি সলমন খুবই যত্নশীল। পুলকিত বলেন, “এত বড় তারকা হয়েও বাড়িতে তিনি এখনও সেলিম সাহেবের ছেলে। বাবার অনুমতি ছাড়া তিনি কোনও কাজ করেন না। পরিবারের প্রতি তাঁর গভীর সম্মান এবং ভালবাসা। এই গুণটি আমি খুব পছন্দ করি এবং নিজের জীবনেও অনুসরণ করার চেষ্টা করি।”