নতুন ‘চৈতন্যদেব’ স্বর্ণাভঋত সান্যাল। ছবি: ফেসবুক।
ছোটপর্দা হোক বা বড়পর্দা, চৈতন্যদেব সব সময় হিট। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবি বা যিশু সেনগুপ্তের ধারাবাহিক ‘মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য’র কথাই ধরুন। যুগাবতারের জুতোয় যাঁরা পা গলিয়েছেন, তাঁরাও জনপ্রিয়তায় ভেসেছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন স্বর্ণাভঋত সান্যাল।
ছোটপর্দায় যিশুর পর বড়পর্দায় সাম্প্রতিক আলোচিত ‘চৈতন্যদেব’ দিব্যজ্যোতি দত্ত। দর্শকমতে, এই দুই আলোচিত অভিনেতার পাশাপাশি এখন উচ্চারিত হচ্ছে স্বর্ণাভের নাম। তিনি ‘তাঁরে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকে যুগাবতারের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। রোজ ঘণ্টা দুয়েক ধরে রূপটান নিয়ে ‘চৈতন্যদেব’ হয়ে ওঠেন স্বর্ণাভ। পরকীয়া, একাধিক বিয়ে, শাশুড়ি-বৌমার কূটকচালি নয়তো পুরনো প্রেমের প্রত্যাবর্তন— ছোটপর্দার গল্প আপাতত এই চেনা ছকগুলোতে আবর্তিত। সেখানে আধুনিক যুগের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় আখ্যান দেখছেন দর্শক? অভিনেতার কাছে জানতে চেয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম। “দেখছেন বলেই তো গত তিন সপ্তাহ ধরে আমাদের ধারাবাহিক রেটিং চার্টের প্রথম দিকে রয়েছে”, বললেন স্বর্ণাভ। তাঁকেও যে দর্শক ভালবাসা দিচ্ছেন, সেটাও প্রতি মুহূর্তে অনুভব করতে পারছেন। সমাজমাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাঁরা, বলতে বলতে কণ্ঠস্বরে খুশির আমেজ।
ধারাবাহিকে ‘চৈতন্যদেব’-এর রূপসজ্জায় স্বর্ণাভ। ছবি: ফেসবুক।
অথচ বাস্তবের ছবিটা অন্য রকম। স্বর্ণাভ বিজ্ঞানের ছাত্র। তিন বছর বয়স থেকে অভিনয় করে আসা ছেলেটি এখন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
পর্দায় যুগাবতারের ভূমিকায়। অথচ পড়াশোনা বিজ্ঞান নিয়ে। অভিনয় করতে গিয়ে কখনও দ্বিধা তৈরি হয়েছে মনে? “হয়নি”, সাফ জবাব অভিনেতার। স্বর্ণাভ বলেছেন, “এত বছর ধরে অভিনয় করছি। ফলে, পর্দা আর ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা করতে শিখে গিয়েছি। তা ছাড়া, এর আগেও যুগাবতার বা ঈশ্বরের চরিত্রে অভিনয় করেছি। কখনও রামকৃষ্ণদেব হয়েছি, কখনও বিষ্ণুর বামনাবতার। হয়তো তাই, এগুলো আর আমায় আলাদা করে ভাবায় না।” স্বর্ণাভ কি তা হলে নাস্তিক? ঈশ্বরবিশ্বাসী নন! “ঈশ্বর আমার কাছে শক্তি। আমি সেই শক্তিকে বিশ্বাস করি। যা কিছু নিয়ম মেনে হয়, সেটাই পছন্দ আমার। কারণ, বিশৃঙ্খলতা ভাল কিছুর জন্ম দিতে পারে না। সেটা কাজ হোক বা ঐশ্বরিক শক্তি”, যুক্তি অভিনেতার।
এক ফ্রেমে স্বর্ণাভঋত সান্যাল আর যিশু সেনগুপ্ত। ছবি: ফেসবুক।
যাঁরাই একবার ‘চৈতন্যদেব’ হয়েছেন, তাঁদের গায়েই তকমা পড়ে গিয়েছে। যিশুকে অনেক বছর পর্যন্ত যুগাবতারের বাইকে দর্শক ভাবতে পারেননি। দিব্যজ্যোতি আপাতত তাই বড়পর্দা থেকে দূরে। স্বর্ণাভের সঙ্গেও যদি এমন কিছু হয়? তাঁর পছন্দের ‘চৈতন্যদেব’ই বা কে? আত্মবিশ্বাসী অভিনেতা বললেন, “যিশুদা আমার চোখে সেরা ‘চৈতন্যদেব’। ওঁর মতো অভিনেতা খুব কম দেখেছি। যিশুদাকে দেখে অনেক কিছু শেখারও আছে।” হাসতে হাসতে এ-ও জানালেন, তকমা নিয়ে ভয় নেই তাঁর। অন্য চরিত্রেও তাঁকে ভাববেন পরিচালকেরা। যেমন ভেবেছেন পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। খুশি খুশি গলায় বললেন, “জানেন, দাদার ‘অভিমান’ ছবিতে যিশুদার ছেলেবেলার চরিত্রে অভিনয় করছি!”