ওরিকে আক্রমণ ত্রিনেত্রার! ছবি: সংগৃহীত।
ওরি তথা ওরহান অবত্রামণির উপর চটলেন রূপান্তরকামী চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ত্রিনেত্রা হলদর। সম্প্রতি এক পডকাস্টে মহিলা ও পুরুষদের শৌচালয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন ওরি। সেই মন্তব্য নিয়েই আপত্তি ত্রিনেত্রার। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। ত্রিনেত্রা কর্নাটকের প্রথম রূপান্তরকামী মহিলা চিকিৎসক। জন্মের সময়ে তাঁর নাম ছিল অঙ্গদ গুম্মারাজু। অস্ত্রোপচারের পর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ত্রিনেত্রা হলদর গুম্মারাজু। তিনি অভিনয়ও করেন। ‘মেড ইন হেভেন’ ওয়েব সিরিজ়ে রূপান্তরকামী মহিলার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে ত্রিনেত্রকে। অভিনয়ের মাধ্যমেই দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ওরির মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও দাবি করেছেন ত্রিনেত্রা। ওরির বক্তব্য, নারী ও পুরুষের একই শৌচালয় মোটেই ঠিক নয়। এতে মহিলাদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু ত্রিনেত্রার দাবি, রূপান্তরকামী বা তৃতীয় লিঙ্গ মানুষেরও নিরাপত্তা থাকে না। তিনি বলেন, “আমি ওঁর মন্তব্যের কিছু ভিডিয়ো দেখছিলাম। আমি শুধু সব পডকাস্টের সঞ্চালকদের একটা কথা বলতে চাই। দয়া করে এমন অতিথিদের আপনার অনুষ্ঠানে আনবেন না। যাঁরা কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নন বা যাদের সেই বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেই, তাঁদের অতিথি বানিয়ে আনবেন না।”
এর পর ত্রিনেত্রা নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি জানান, এক জন রূপান্তরকামী মহিলা হিসাবে ‘মেডিক্যাল’ পড়ার সময়ে তিনি নিরাপদে শৌচালয় ব্যবহার করতে পারেননি। চিকিৎসক তথা সমাজকর্মীর কথায় “আমি একজন রূপান্তরকামী মহিলা। একটা সময় ছিল যখন আমি পুরুষ বা মহিলা—কোনও শৌচালয়ই ব্যবহার করতে পারতাম না। কারণ দু’জায়গাতেই নিরাপত্তা ছিল না। তাই জল খাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলাম। শেষে আমি মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হই।”
রূপান্তরকামী মহিলাদের মৌলিক অধিকার নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই, এমনও বক্তব্য ত্রিনেত্রার। তাঁর কথায়, “মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, মানুষ চাকরি ছেড়ে দিচ্ছে এবং সারা দেশের রূপান্তরকামী মানুষের নিজেদের কিছু মৌলিক অধিকার হারিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি শৌচালয় দরকার যেখানে, মহিলা ও পুরুষ ছাড়া অন্য লিঙ্গের মানুষও নিরাপদ বোধ করে।” তবে এই নিয়ে পাল্টা আর কিছু বলেননি ওরি।
উল্লেখ্য, ওরি সেই পডকাস্টে সঞ্চালককে প্রশ্ন করেন, “আপনার যদি একটি কন্যা থাকত এবং সে শৌচাগারে যেত, আর সেখানে কোনও পুরুষ তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করত, তা হলে আপনি কি এতে স্বচ্ছন্দ থাকতেন?” এখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ত্রিনেত্রের বক্তব্য, শুধুই নারীদের সমস্যার মুখে পড়তে হয় না। রূপান্তরকামীদেরও নানা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়, যা ওরি উল্লেখই করেননি।