Debesh Chatterjee on upcoming state election

যত ক্ষণ বিরোধিতা থাকে, গণতন্ত্র তত ক্ষণই থাকে, না হলে গণতন্ত্র অর্থহীন: দেবেশ চট্টোপাধ্যায়

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবেশ চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৫
Share:

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের মতামত জানালেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবেশ চট্টোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

দেবেশ চট্টোপাধ্যায়: আমরা যখন রসায়ন পড়েছিলাম, তখন দু’ধরনের গ্যাসের কথা বলা হয়েছিল। একটা হল রিয়্যাল গ্যাস, আর একটা হল আইডিয়াল গ্যাস। আইডিয়াল গ্যাসটা থিয়োরিটিক্যাল, আর রিয়্যাল গ্যাসটা হল জ্যান্ত। তবে আইডিয়াল কোনও দিনই রিয়্যাল হয় না। কিন্তু রিয়্যালের মধ্যে আইডিয়ালের গুণ থাকে। সামগ্রিক ভাবে ভারতবর্ষের যে চরিত্র, যা আমাদের সকলের থেকে আলাদা করেছে, সেটা হল ‘বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’। আমাদের দেশের এই বিষয়টি দেখার জন্য গোটা দেশ ঘুরে বেড়াতে হয় না। রাজ্যেই পাঁচ কিলোমিটার বাদে বাদে ভাষা, পোশাক, সংস্কৃতি বদলে যায়। এই বৈচিত্র গোটা দেশে অদৃশ্য সুতোয় আটকে রয়েছে। আমি চাইব, যিনি রাজ্য চালাবেন তিনি যেন এই সব কিছুকে সমান মান্যতা দেন। এই বৈচিত্রের অর্থ বুঝলে তবেই তিনি হবেন প্রকৃত মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?

দেবেশ: দল দেখে।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

দেবেশ: আমার মনে হয় দরকার। ন্যূনতম একটা ধারণা ও শিক্ষা থাকা উচিত। আর জেতার পরে প্রশিক্ষণ নেওয়াও জরুরি। কারণ, বিধায়ক হওয়ার পর এটা জানা খুব দরকার যে, কী করা উচিত এবং কী করা অনুচিত।

Advertisement

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

দেবেশ: দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইতাম। বায়ুদূষণ, দৃশ্যদূষণ-সহ নানা রকম দূষণ বন্ধ করার চেষ্টা করতাম।

৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

দেবেশ: অবশ্যই! কলকাতা শহরকে বলা হয় এ দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। কিন্তু এ তকমা কি এখন আর আদৌ প্রযোজ্য? আমাদের এখানে সংস্কৃতির কোনও নির্দিষ্ট পরিকাঠামোই আর নেই। বিদেশ থেকে কেউ যদি আসেন এ শহরে, তবে তিনি এখানকার সংস্কৃতি কী দেখবেন! তার কোনও রূপরেখা নেই। আমাদের শহরের প্রাচীন জিনিসগুলিকে টিকিয়ে রাখার কোনও চেষ্টাও যেন নেই। যেমন আমি সারকারিনা হল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলছি। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই হলকে সারিয়ে সংরক্ষণ করা যেত। মোটের উপর আমাদের মতো একটা শহরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মনে করি।

Advertisement

৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

দেবেশ: টাকা, হিংসা ও ক্ষমতার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে!

৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

দেবেশ: অবশ্যই এর বিরুদ্ধে নিয়ম আনা দরকার। তুমি যে দলটার হয়ে দাঁড়িয়ে ভোটে জিতেছ, সেই দল যদি পাল্টাও, তা হলে তোমার বিধায়ক বা সাংসদপদ বাতিল হয়ে যাবে। এই নিয়মটা অবিলম্বে আনা উচিত বলে আমার মনে হয়।

৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

দেবেশ: ভাষার সন্ত্রাস চলছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।

৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

দেবেশ: এ রকম আলাদা আলাদা ভাবে বিষয়গুলিকে না দেখে আমার মনে হয় সামগ্রিক ভাবে দেখা দরকার। তিনটিই সমান প্রয়োজনীয়। সবটা মিলিয়ে দেখতে হবে। খণ্ডিত ভাবে দেখলে হবে না।

১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

দেবেশ: অর্থনীতিবিদরা অনেকে এর পক্ষে বলেছেন, আবার অনেকে বিপক্ষেও বলেছেন। আমি দুটো যুক্তিই শুনেছি। একটা যুক্তিতে শুনেছি মানুষের হাতে টাকা এলে সেই টাকা আবার রোটেট করে তাতে বাজার অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। উল্টো দিকের যুক্তি, এই ভাবে টাকা হাতে তুলে দিলে মানুষের নিজের কাজের উদ্যম এবং কর্মদক্ষতা কমতে থাকে। আমার কথা হল, এই টাকা দেওয়াটা কি সেই মানুষটাকে নিজস্ব জায়গা থেকে উন্নীত করল? যদি হয়, তা হলে ভাল। যদি ব্যক্তিমানুষ হিসাবে সে উন্নীত হয়, তা হলে সামগ্রিক ভাবে সমাজের উন্নতি ঘটবে। নইলে ঘটবে না।

১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

দেবেশ: এমন হওয়াটা একেবারেই মঙ্গলজনক নয়। যত ক্ষণ পর্যন্ত বিরোধিতা থাকে, তত ক্ষণ পর্যন্তই গণতন্ত্র থাকে। বিরোধিতা না থাকলে গণতন্ত্র থাকে না। গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে যায়।

১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

দেবেশ: হ্যাঁ, কিছুটা তো বটেই। চেনা মুখের জনপ্রিয়তাটি দ্রুত ভোট টানতে ব্যবহার করা যায়।

১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

দেবেশ: সারা দেশের ও যুগের নিরিখে মহাত্মা গান্ধী বরাবরই আমার খুব পছন্দের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement