ছবি : সংগৃহীত।
নাক বোজার সমস্যা মারাত্মক আকার নিতে পারে। অনেকেরই রাতে এমন সমস্যা হলে দম আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে শ্বাস নালি যাঁদের স্পর্শকাতর,তাঁরা মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে গলায় সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। তাই মুখ দিয়ে শ্বাস না নিলে দম বন্ধ হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে এক বিশেষ ধরনের শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম কাজে আসতে পারে— বুটেইকো ব্রিদিং। তার জন্য বিশেষ কিছু করতে হবে না। বিছানায় শুয়েই 'বুটেইকো ব্রিদিং টেকনিক' অনুসরণ করা যায়।
এই পদ্ধতিতে মূলত শরীরের কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য ঠিক করে নাকের ভেতরের পথকে প্রশস্ত করে। তাতে খুব দ্রুত নাক খুলে যায়। কী ভাবে এই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করবেন? নিম্নোক্ত ধাপগুলো পর পর অনুসরণ করুন—
১. নাক দিয়ে শ্বাস নিন (যতটুকু সম্ভব)
প্রথমে সোজা হয়ে বসুন বা মাথা উঁচু করে আধশোয়া হন। মুখ একদম বন্ধ রাখুন। নাক দিয়ে খুব ধীরে এবং হালকা করে একটু শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন।
২. শ্বাস আটকে রাখুন
শ্বাস ছাড়ার পর নাক আঙুল দিয়ে টিপে ধরুন এবং মুখ বন্ধ রাখুন। শ্বাস পুরোপুরি আটকে রাখতে হবে।
৩. মাথা ওপর-নিচ করুন
নাক টিপে ধরা অবস্থায় মাথা ধীরে ধীরে ওপর-নিচ করুন অথবা ডানে-বামে দোলান। ততক্ষণ পর্যন্ত শ্বাস আটকে রাখুন যতক্ষণ না আপনার মনে হয় যে আপনার এবার শ্বাস নিতেই হবে । তবে খুব বেশি কষ্ট করবেন না, হালকা অস্বস্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৪. ধীরে শ্বাস নিন
যখন আর শ্বাস আটকে রাখতে পারবেন না, তখন নাক ছেড়ে দিন এবং মুখ বন্ধ রেখে নাক দিয়েই খুব ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। শুরুতে ২-৩ বার বড় শ্বাস নিতে হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য রাখবেন যেন মুখ না খুলে যায়।
৫. বিশ্রাম ও পুনরাবৃত্তি
২-৩ মিনিট স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। যদি নাক পুরোপুরি না খোলে, তবে আরও ১-২ বার এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন।
কেন এটি কাজ করে?
শ্বাস আটকে রাখলে শরীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা সামান্য বেড়ে যায়। এটি একটি প্রাকৃতিক 'ব্রঙ্কোডাইলেটর' হিসেবে কাজ করে, যা নাকের ভেতরের বায়ুপথ এবং রক্তনালীকে শিথিল করে দেয়। ফলে বন্ধ নাক চট করে খুলে যায়।
মনে রাখবেন
যদি মনে হয় ঘরের বাতাস খুব শুকনো, তবে শোবার ঘরে এক বালতি জল রাখতে পারেন। এতে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়বে এবং নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা কমবে।