মোবাইল আসক্তি কমানোর ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ কী? ছবি : সংগৃহীত।
সামনে খাবার পড়ে ঠান্ডা হচ্ছে, অথচ সে দিকে তাকানোর সময়ই নেই সন্তানের। হয়তো যত্ন করে কিছু বানিয়ে দিয়েছেন, মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকায় সে কী খেল, বুঝতেই পারল না। কিংবা দিনের শেষে বিছানায় স্বামীর সঙ্গে কিছু কথাবার্তা বলতে চাইছেন স্ত্রী। কিন্তু তিনি তখনও ল্যাপটপ বা মোবাইলে ব্যস্ত। কথার উত্তরে হয়তো হালকা জবাব দিলেন। কিন্তু কী বলা হয়েছে তা শুনতেই পেলেন না ভাল করে। একই ঘটনা ঘটতে পারে মোবাইলে আসক্ত প্রেমিকা বা স্ত্রী-র ক্ষেত্রেও। তাঁদের সঙ্গ বা তাঁদের সঙ্গে কোনও কিছু উপভোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে। যাঁরা এই সমস্যায় ভুক্তভোগী, তাঁরা জানেন এই আসক্তি ছাড়ানোর ইচ্ছেটা কতখানি জোরদার। কিন্তু ইচ্ছে হলেই কি উপায় হয়? এ ক্ষেত্রে অবশ্য হয়েছে। এক স্নায়ু্রোগ চিকিৎসক একটি খুব সহজ টোটকা দিয়েছেন মোবাইল আসক্তি কাটানোর।
মোবাইলের প্রতি এই যে নেশা, তার একটি কারণ আছে বলে জানাচ্ছেন স্নায়ু্রোগ চিকিৎসক কল্লোলকুমার দে। তাঁর মতে, মোবাইলে যে নানা রঙের জিনিস চোখের সামনে ভেসে বেড়ায় তা মস্তিষ্কের ডোপামিন বা সুখী হরমোনকে প্রভাবিত করে। যে কারণে মোবাইল ঘাঁটলে একটি আপাত মন ভাল করা অনুভূতি হয়। মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে ওই ভাল লাগার অনুভূতির প্রতিই। আসক্তি কাটাতে চাইলে তাই সেটিই সবার আগে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
চিকিৎসকরের মতে, মোবাইলের পর্দা উজ্জ্বল এবং রঙিন হওয়ার বদলে যদি সাদা-কালো হয়ে যায়, তা হলেই মোবাইলের পর্দা আগের মতো ভাল লাগার অনুভূতি দেবে না। ডোপামিনও শান্ত হবে। তাই প্রিয়জনের বা নিজের মোবাইল আসক্তি কাটানোর জন্য একটিই টোটকা অনুসরণ করতে বলছেন চিকিৎসক। তিনি বলছেন, ‘‘মোবাইলের পর্দার রং রঙিন থেকে গ্রে স্কেল বা সাদা-কালো-ধূসরে বদলে নিন। এতে মোবাইলে প্রয়োজনীয় কাজ করতে অসুবিধা হবে না। কিন্তু মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুঁদ হয়ে থাকার মতো আসক্তিও আসবে না।’’