শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গের যত্ন কী ভাবে নেবেন? —প্রতীকী ছবি।
লিভার! ছোট্ট একটি প্রত্যঙ্গ। কিন্তু দূষিত পদার্থ দূর করা থেকে প্রোটিন সংশ্লেষ, রক্ত পরিশোধন, হজমে সহায়তা করা-সহ অজস্র জটিল কাজের গুরু দায়িত্ব তার কাঁধে। দিনে কম করে ৫০০টি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এত কাজ করতে গিয়ে প্রত্যঙ্গটি যদি মুখ থুবড়ে পড়ে, তা হলে বিপদ অনিবার্য। ব্যাহত হবে সমগ্র শরীরের কাজকর্ম। অন্য প্রত্যঙ্গের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সুস্থ থাকতে হলে তাই বিশেষ যত্ন প্রয়োজন লিভারের। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনযাপনের ভুলেই ক্ষতি হতে পারে প্রত্যঙ্গটির। কী ভাবে তার দেখভাল করবেন?
ঝুঁকি কোথায়: ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, বেশি চিনি জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত লবণ, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার, ভাইরাল সংক্রমণ লিভারের ক্ষতি করে। তাই লিভার ঠিক রাখতে এগুলি এড়াতে হবে। পিৎজ়া, বার্গার, ভাজাভুজি খাবার সুস্বাদু বলেই বেশি লোভনীয়। কার্বোনেটেড পানীয় থেকে চিনি যুক্ত পানীয়— যা কিছু খেতে একটু বেশি ভাল, তা কিন্তু লিভারের ক্ষতি করে। তাই খাওয়ার সময়ে সতর্ক থাকা জরুরি। পছন্দের খাবার অস্বাস্থ্যকর হলে, যতটা পারা যায় সেগুলি কম খেতে হবে।
ফ্রুক্টোজ়: চিনি যুক্ত খাবার এবং পানীয়ে বিপদের ঝুঁকি বেশি। ঠান্ডা পানীয়, সোডা যুক্ত পানীয়ে উচ্চ মাত্রায় ফ্রুক্টোজ় থাকে। এই ফ্রুক্টোজ় ফ্যাট হিসাবে লিভারে সঞ্চিত হয়। লিভারে ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে থাকলে, প্রত্যঙ্গটির কার্যকারিতা কমে যায়। অতিরিক্ত চিনি, ফ্রুক্টোজ় জাতীয় খাবার খেলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজ়িজ়ের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত তা শরীরে গেলে বিপদ অনিবার্য।
মদ্যপানে নিয়ন্ত্রণ: মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। মদ্যপানের ফলে শরীরে যে দূষিত পদার্থ উৎপাদিত হয় তাতে লিভারের উপর চাপ বাড়ে। ফলে রোজ মদ খাওয়া শুরু করলে প্রত্যঙ্গটির ক্ষতি অনিবার্য।
ওষুধেও বিপদ
শুধু ভাজাভুজি, অ্যালকোহল বা চিনিতে নয়, বিপদ রয়েছে ওষুধেও। কিছু কিছু ওষুধ লিভারে দূষিত পদার্থের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সব ওষুধ সকলের সহ্যও হয় না। তাই কোনও ওষুধ খাওয়ার পরে যদি প্রস্রাবের বর্ণ বদলায়, হজমে অসুবিধা হয়, গা-বমি শুরু হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শারীরচর্চা: হাঁটাচলা, কায়িক শ্রম, শারীরচর্চা লিভার ভাল রাখতেও সাহায্য করে। হাঁটাচলা কমে গেলে ওজন বৃদ্ধির ভয় থাকে। বাড়তি মেদ জমা মানেই লিভারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শারীরচর্চা সামগ্রিক ভাবেই স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।