ভুঁড়ি নিয়ে ভাবনা ছেড়ে, মেদ গলানোর প্রক্রিয়া শুরু করুন। কোন কোন পন্থা অনুসরণ করা জরুরি? ছবি: শাটারস্টক।
বয়স হলে পেটে-কোমরে মেদ জমা, ভুঁড়ি হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অতি সাধারণ ভুঁড়ি যে কত বড় শত্রু হতে পারে, অনেকেই সে বিষয়ে সচেতন নন। নাদুসনুদুস ভুঁড়িকে অনেকেই সুখের চিহ্ন মনে করেন। কিন্তু আদতে তা-ই হতে পারে অসুখের ইঙ্গিত। চিকিৎসকেরা বলছেন, শক্ত ভুঁড়ির নেপথ্যে থাকে ভিসেরাল ফ্যাট (লিভার-সহ প্রত্যঙ্গের উপর জমা মেদের পরত), যা হরমোনের ওঠাপড়াকে প্রভাবিত করে, বিপাকক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কম-বেশি হতে পারে। হার্টের পক্ষেও তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এই ভুঁড়ি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এক মাসে ভুঁড়ি কমাতে কী কী করা দরকার
ভুঁড়ি যত মোটা এবং বড় হবে ততই তা কমানো কঠিন। তবে চেষ্টা করলে এক মাসে অনেকটাই মেদ গলানো সম্ভব।
খাবারে বদল: শুরুতেই খাদ্যতালিকায় বদল দরকার। প্রথম ধাপে বাদ দেওয়া দরকার চিনি, মিষ্টি, ভাজাভুজি, বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার, উচ্চ ক্যালোরির জাঙ্ক ফুড। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে পরিমিত এবং পুষ্টিগুণ বুঝে। তালিকায় জুড়তে হবে প্রোটিন এবং ফাইবার। বাদ যাবে রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট যেমন ময়দার খাবার, সাদা পাউরুটি। ভাত খেলেও তা পরিমিত হওয়া জরুরি। তালিকায় রাখতে হবে টাটকা ফল, শাক-সব্জি, বাদাম।
জল এবং বীজ: দিনের শুরুতেই জল খাওয়া জরুরি। একটু হালকা গরম জল বা চিয়া অথবা তিসি ভেজানো জল খেয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। জল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে সম্পাদনের জন্য জরুরি। পর্যাপ্ত জল বদহজমের সমস্যা কমবে, শরীর সুস্থ থাকবে। মেদ গলাতেও তা জরুরি।
শরীরচর্চা: দ্রুত পেটের চর্বি গলাতে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। সকাল শুরু হোক হাঁটাহাটি দিয়ে। একটু জোরে ১০ মিনিট হেঁটে ৫ মিনিট গতি মন্থর করতে হবে। আবার জোরে হাঁটতে হবে। ভাল হয় যদি সিঁড়িতে দ্রুত গতিতে ওঠা যায়। এতেও মেদ গলে দ্রুত। পাশাপাশি ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ়, যোগাসনের অভ্যাসও শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। সামগ্রিক ভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
ঘুম: শুনতে অবাক লাগলেও ওজন কমানোর সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে। কম ঘুম হলে হরমোনের মাত্রার হেরফের হতে পারে। বাড়তে পারে মানসিক চাপ, উদ্বেগ। মানসিক চাপ বাড়লে শরীরের প্রত্যঙ্গগুলিও ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। বিপাকক্রিয়াতেও তার প্রভাব পড়ে। তা ছাড়া, শরীরচর্চার ফলে পেশির উপর যে চাপ পড়ে, আঘাত লাগে, তার পুনরুজ্জীবনের জন্যও বিশ্রাম এবং ঘুম জরুরি।
জীবনযাপনে বদল জরুরি: নিয়মিত মদ্যপানও মেদ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তা ছাড়া খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি খাওয়ার নিয়মেও বদল দরকার। রাতে দেরি করে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে ১০ মিনিট হাঁটলে, মেদ জমতে পারবে না। রাতের খাওয়াটি হবে তুলনামূলক হালকা। তা ছাড়া মেদ গলানো মানে কম খাওয়া নয়। প্রাতরাশ বাদ দেওয়া বড় ভুল। সকালের জলখাবারটি হতে হবে প্রোটিন, ফাইবার এবং ভিটামিন-খনিজে পূর্ণ। বদলে যাওয়া খাদ্যতালিকায় বীজ, বাদামের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা জরুরি।
ধারাবাহিকতা: শুরুর উদ্যম কিছু দিন যেতে না যেতেই ফুরিয়ে যায়। জমা মেদ গলানো কঠিন না হলেও অতটাও সহজ নয়। খাওয়া, বিশ্রাম এবং শরীরচর্চার নিয়ম মানতে হবে ধারাবাহিক ভাবে। লক্ষ্যলাভের পরেও সবটা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
কী কী বদল হবে
সঠিক ভাবে খাওয়া এবং শরীরচর্চা করলে ধীরে ধীরে মেদ নরম হতে শুরু করবে। ক্লান্তি কমবে। হাঁটাচলাতেও সুবিধা হবে। কমবে অস্থিসন্ধির ব্যথা। নিয়ম করে প্রাণায়াম, যোগাসন করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস বশে রাখা সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে শরীর চনমনে হতে শুরু করবে।
তবে এক মাসেই অতিরিক্ত ওজন কমানো ঠিক নয়। ৪-৫ কেজি পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। পুষ্টিবিদেরাও বলছেন, মেদ ঝরাতে খুব বেশি তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। বরং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে রাশ টানলে, মেদও কমবে, আবার ওজন বশে রাখাও সহজ হবে।