Ceylon Olive Benefits

বিদেশি অলিভ আর বাঙালি জলপাই এক নয়! তবে পুষ্টিগুণে বঙ্গের এই শীতকালীন ফলও কম যায় না

এখন স্বাস্থ্যসচেতনেরা অলিভ অয়েলের পিছনে ছুটলেও এক কালে বাঙালি পরিবারে শীতে জলপাইয়ের চাটনি, আচার প্রায়ই বানানো হত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৭
Share:

ছবি : সংগৃহীত।

অলিভ এবং অলিভ অয়েল বিদেশি হতে পারে, তবে বঙ্গেরও নিজস্ব জলপাই আছে। আর তা পুষ্টিগুণে কোনও অংশে কম নয়।

Advertisement

শীতকালে এ রাজ্যের বাজারে যে টক স্বাদের লম্বাটে কুলের মতো দেখতে ছোট ছোট ফল পাওয়া যায়, সেগুলিই জলপাই। যা দিয়ে আচার বানানো হয়। বানানো হয় শীতকালীন টক-ঝাল-মিষ্টি চাটনি। এই জলপাইয়ের নামও অলিভ। সেলন অলিভ। তবে এটি আর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলপাই অর্থাৎ যা থেকে অলিভ অয়েল তৈরি হয়, তা এক প্রজাতির নয়। তাতে অবশ্য অসুবিধা নেই। কারণ বঙ্গদেশে পাওয়া জলপাই পুষ্টিগুণে সমান টক্কর দিতে পারে বিদেশের অলিভকে। শুধু তা-ই নয় প্রাকৃতিক গাছ-গাছড়া থেকে যে সমস্ত ওষুধ তৈরি করা হয়, তাতেও এই ফলের ব্যবহার হয়। বিশেষ করে পেটের রোগ সারাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

জলপাই খাওয়া কেন উপকারী

Advertisement

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

জলপাইতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘ভাল’ কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমায়।

পরিপাকে সহায়ক

জলপাইয়ের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। জলপাইয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্টও। এটি ডায়েরিয়ার ওষুধ হিসাবে কার্যকর। জলপাইয়ের গাছের ছাল এবং পাতা বাটা গ্যাস্ট্রিক এবং আলসারের সমস্যায় প্রাকৃতিক ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

জলপাইয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রোটিন। যা সাধারণ ফলে কমই থাকে। ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে প্রোটিন থাকে প্রায় ৫ গ্রামের কাছাকাছি। যা ফলের হিসাবে বেশিই। এ ছাড়া এতে ফাইবারও থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, জলপাই রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উপকারী।

আর্থ্রাইটিসে

জলপাই প্রদাহ কমাতে দারুণ উপকারী। তাই প্রদাহজনিত শরীরের নানা সমস্যা, যেমন— আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা খনিজ উপাদান হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।

ত্বক ও চুলের জন্য

জলপাইতে থাকা ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বকের সতেজ ভাব ধরে রাখে। বলিরেখা পড়তে দেয় না। চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং খুশকি দূর করতেও জলপাইয়ের রস বা তেল কার্যকরী।

রোগ প্রতিরোধে

জলপাইয়ে রয়েছে জোরালো কিছু অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। যা শরীরে ছড়িয়ে থাকা দূষিত কণাগুলিকে দূর করতে সাহায্য করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। শীতকালীন নানা ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাস জনিত সমস্যার সঙ্গে লড়তে পারে শরীর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement