মনখারাপ দূর করার ব্যায়াম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
অফিস হোক বা বাড়ি— কাজ নিয়ে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু ব্যস্ততা, দায়-দায়িত্ব, পরিবার, বাড়ির ছোট সদস্যকে সামলানোর পাশাপাশি নিজের ভাল থাকাটা খুব জরুরি। ঘরে-বাইরে কাজ সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। তার জেরেই শরীর-মন ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। মেজাজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার উপর উদ্বেগের বোঝা তো রয়েছেই। চলার পথে জটিলতা এলে অনেকেই অতিরিক্ত উদ্বেগে ভুগতে শুরু করেন যার প্রভাব পড়ে চেহারাতেও। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘অ্যাংজ়াইটি অ্যাটাক’। উদ্বেগের বোঝা এতটাই যে, সাময়িক ভাবে চিন্তাভাবনাও গুলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে যাঁরা প্রায়ই ভোগেন, তাঁদের জন্য সহজ নিরাময়ের উপায় হল ব্যায়াম। ভারতীয় যোগাসনে এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যা মন ভাল করে দিতে পারে। এ সব ব্যায়ামের নিয়মিত অভ্যাসে অতিরিক্ত উদ্বেগ, দুশ্চিন্তারও অবসান ঘটতে পারে।
মন ভাল রাখার কিছু ব্যায়াম
আইসোলেশন স্ট্রেংথ ট্রেনিং
কাফ রেজ়
দেওয়ালের ধারে দাঁড়িয়ে, পায়ে ভর দিয়ে গোড়ালি ওঠাতে এবং নামাতে হবে। রোজ ২০টি করে ২ সেট করতে হবে। হাতে ওজন নিয়েও এই ব্যায়াম করা যায়।
চেস্ট ওপেনার স্ট্রেচ
চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। কাঁধ সোজা রেখে দুই হাত পিঠের দিকে নিয়ে যান। এ বার পিঠের দিকে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ধরুন। পিঠ টানটান রেখে দুই হাত যতটা সম্ভব পিছন দিকে টানুন। বুক প্রশস্ত হলে ওই অবস্থানে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকুন। গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।
আইসোমেট্রিক ব্যায়াম
রাশিয়ান টুইস্ট
মন ভাল রাখতে রাশিয়ান টুইস্টও খুব উপকারী। ম্যাটের উপর পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এ বার দুই পা ভাঁজ করে সামান্য উপরে তুলুন। হাঁটু ভাঁজ করতে হবে। শরীর সামান্য পিছন দিকে হেলিয়ে দুই হাত জড়ো করুন। এর পর পা একই ভাবে রেখে কোমর থেকে শরীরের উপরিভাগ এক বার বাঁ দিকে ও এক বার ডান দিকে ঘোরাতে হবে। দুই পা যেন মাটি স্পর্শ না করে। ১০ সেট করে ৩ বার করতে হবে।
মন ভাল রাখারও ব্যায়াম আছে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
যোগাসন
উত্তনাসন বা স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। কোমর, পিঠ থাকবে টানটান। এ বার কোমর থেকে শরীর ঝুঁকিয়ে দুই হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঙলে হবে না। শরীরচর্চা করার অভ্যাস না থাকলে খুব বেশি ক্ষণ এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন না। মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো থেকে আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসুন।
যোগাসন অভ্যাসেও কমবে মানসিক চাপ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
জ্ঞান মুদ্রা
আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, পিঠ সোজা করে বসুন। দুই হাত রাখুন হাঁটুর উপরে। এ বার তর্জনী ভাঁজ করে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের গোড়ায় নিয়ে আসতে হবে। বাকি তিন আঙুল সোজা ভাবে খোলা থাকবে। দুই হাতেই করতে হবে মুদ্রাটি। এই ভঙ্গিমায় চোখ বন্ধ করে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।