ছবি: সংগৃহীত।
টক-মিষ্টি সুস্বাদু ফল। তার উপর খোসা ছা়ড়ানো, কাটাকুটির ঝামেলা নেই। ধুয়ে নিলেই রেডি। এমন ফলের ভক্ত সংখ্যা তাই কম নয়। যাঁরা ফল খেতে ভালবাসেন না, তাঁরাও আঙুর ঠিকই খেয়ে নেন। কিন্তু সুস্বাদু আঙুর কখনও সখনও বিপদেরও কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, অর্থাৎ পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীর মধ্যবর্তী ঢাকনাটি দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে আঙুর বাড়িয়ে দিতে পারে অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালার মতো সমস্যা। যা সারা দিনের খাওয়াদাওয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে যদি কয়েকটি বিষয়ে সাবধান হওয়া যায়, তবে অ্যাসিডিটির ভয় ছাড়াই খাওয়া যেতে পারে আঙুর।
আঙুর খেলে কেন অ্যাসিডিটি হতে পারে?
সমস্যা এড়াতে কীভাবে খাবেন?
যদি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকে, তবে কিছু নিয়ম মেনে আঙুর খেতে পারেন—
খালি পেটে খাবেন না: সকালে খালি পেটে বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর আঙুর না খাওয়াই ভাল। এতে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা হঠাৎ অনেক খানি বেড়ে যেতে পারে।
টক আঙুর এড়িয়ে চলুন: আঙুর কেনার সময় মিষ্টি আঙুর বেছে নিন। টক বা আধাপাকা আঙুরে অ্যাসিডের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
সবুজ আঙুরে ঝুঁকি তুলনায় বেশি: সবুজ আঙুর কাঁচা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ওই আঙুর থেকে অ্যাসিডিটির সম্ভাবনাও তুলনায় বেশি।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: একবারে এক বাটি আঙুর না খেয়ে অল্প পরিমাণে, যেমন ১০-১২টি করে খান। বেশি খেলে পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে এবং রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্য খাবারের সঙ্গে মেশান: শুধু আঙুর না খেয়ে সঙ্গে অন্য খাবার যেমন দই এবং ওটস খেলে এর অ্যাসিড কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে অনেকের দই সহ্য হয় না। তাঁদের ক্ষেত্রে এমন করলে সমস্যা বাড়তে পারে।
শোয়ার আগে খাবেন না: অনেকেই রাতে স্বাস্থ্যকর মিষ্টি হিসাবে ফ্রুট স্যালাড খান। তাতে আঙুরও থাকে। কিন্তু ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে আঙুর না খাওয়াই ভাল। কারণ খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়লে রিফ্লাক্স হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।
ভালভাবে ধুয়ে নিন: আঙুরের গায়ে অনেক সময় রাসায়নিক বা কীটনাশক থাকে যা পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই আঙুর খাওয়ার আগে হালকা গরম জল বা নুন জল দিয়ে ভাল ভাবে ধুয়ে নিন।