ছবি: সংগৃহীত।
সুস্বাস্থ্যের জন্য আদা-জলের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। এ কালেও শরীরের প্রদাহ কমাতে আদার ব্যবহার করতে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। শরীরে ওজনবৃদ্ধি বা মেদ বৃদ্ধিও অনেকক্ষেত্রেই প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে কি নিয়মিত ঈষদুষ্ণ আদা-জল খেলে ওজন কমতে পারে?
প্রদাহ নিরাময়ে আদার ভূমিকা
আদার মধ্যে রয়েছে জিঞ্জারল নামক একটি শক্তিশালী বায়ো-অ্যাক্টিভ উপাদান। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণে ভরপুর। নিয়মিত আদা-জল খেলে শরীরের পেশির ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ওজন কমাতে আদা-জল
আদা সরাসরি চর্বি না গলালেও ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। আদা-জল শরীরের বিপাক হার বা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে, যা ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা
যদিও আদা-জল উপকারী, অতিরিক্ত সেবন করলে বুক জ্বালা বা পেটের সমস্যা হতে পারে। দিনে এক বা দুই গ্লাস ঈষদুষ্ণ আদা-জল পান করাই যথেষ্ট। তবে কেবল আদা-জল নয়, এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়ামই সুস্থভাবে ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি।প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয় হিসেবে আদা-জল অবশ্যই কার্যকর, তবে শারীরিক কোনো বিশেষ জটিলতা থাকলে এটি নিয়মিত শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।