কেন হয় পেরিমোলাইসিস, রোজের কোন কোন অভ্যাস দায়ী? ছবি: ফ্রিপিক।
দাঁত নিয়ে ভোগেননি এমন মানুষ কমই আছেন। কথায় আছে, দাঁত থাকতে তার মর্ম বোঝা যায় না। সত্যিই তাই। জ্বর, পেটের সমস্যা বা ব্যথাবেদনা হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়। তবে দাঁত শিরশির করলে ক’জনই বা চিকিৎসকের কাছে ছোটেন! যত দিন না সমস্যা আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠছে। দাঁতে শিরশিরানি, মাড়িতে ঘা অথবা ক্যাভিটি হলে তখন টনক নড়ে। দন্ত চিকিৎসকেরা বলছেন, দাঁত ও মাড়ি সংক্রান্ত সমস্যার অনেকটাই নির্ভর করে রোজের খাওয়াদাওয়া ও কিছু অভ্যাসের উপরে। পেরিমোলাইসিস দাঁতের এমন একটি রোগ যার জন্য রোজের কিছু অভ্যাসই দায়ী। অজান্তেই এই রোগ বাসা বাঁধছে আপনারই মুখগহ্বরে।
পেরিমোলাইসিস কী?
পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিডের কারণে যখন দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে থাকে এবং দাঁতে বা মাড়িতে গর্ত হয়ে যায়, তখন তাকে বলে পেরিমোলাইসিস। এটি আসলে দাঁতের ক্ষয়জনিত রোগ, যার জন্য দায়ী অ্যাসিড। খাবার হজমের জন্য পাকস্থলী থেকে যে ধরনের অ্যাসিড নির্গত হয়, তা-ই যদি দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে থাকে, তখন সেটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সাধারণত দেখা যায় যাঁদের গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বেশি, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া করেন, অতিরিক্ত ধূমপান করেন, তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়।
দাঁতের উপরিভাগের শক্ত সাদা আবরণকে বলা হয় এনামেল। এটি মানবশরীরের সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হলেও, এক বার ক্ষয় হয়ে গেলে এটি আর প্রাকৃতিক উপায়ে ফিরে আসে না। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে বা খুব বেশি অম্ল জাতীয় খাবার বা অধিক মিষ্টি খাবার খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড বার বার মুখের ভিতর চলে আসে। ফলে এনামেল গলে যেতে শুরু করে।
দেশের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ'-এর জার্নাল 'পাব মেড'-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে অন্তত ৬২ শতাংশের দাঁতের রোগ রয়েছে, ৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় ভুগছে কম করেও ৫২ শতাংশ। দাঁতের ক্ষয়জনিত এই রোগ তলে তলে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কোন কোন অভ্যাস বদলাবেন?
১) দাঁতে আটকে যায়, এমন আঠালো খাবার বা মিষ্টি বেশি খেলে দাঁতের এনামেলের ক্ষয় দ্রুতগতিতে ঘটতে থাকে। যেমন, চকোলেট, নানা ধরনের ক্যান্ডি, জেলি লজেন্স, ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে কিশমিশ ও শুকনো খেজুর বেশি খেলে দাঁতের ক্ষতি হবে।
২) যে কোনও রকম কার্বোনেটেড পানীয় দাঁতের এনামেল স্তরের ক্ষয়ের কারণ হতে পারে। ডায়েট সোডা, প্যাকেটজাত ফলের রস, স্পোর্টস ড্রিঙ্ক বা দোকান থেকে কেনা এনার্জি ড্রিঙ্ক দাঁতের জন্য মোটেই ভাল নয়।
৩) অনেকেই ভাবেন, জোরে ঘষলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়, যা একদম ভুল ধারণা। খুব জোরে ব্রাশ করলে দাঁতের সুরক্ষা কবচ এনামেল ক্ষয়ে যায়।
৪) সিগারেট বা জর্দার ব্যবহার কেবল দাঁতে দাগই ফেলে না, এটি মাড়ির রোগেরও প্রধান কারণ। অতিরিক্ত নিকোটিন দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় ঘটায় খুব দ্রুত।
৫) চা বা কফি বেশি পান করলে দাঁতে ছোপ পড়ার পাশাপাশি এনামেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত ক্যাফিন দাঁতের জন্য ভাল নয়।
৬) ছোটদের ক্ষেত্রে নানা জিনিস মুখে দেওয়ার প্রবণতা থাকে। তাদের দুধের দাঁত উঠলেই যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। বার বার কুলকুচি করাতে হবে।
প্রতিছ’মাসেএকবারদাঁতদেখিয়েনেওয়াভাল।সেক্ষেত্রেকোনওসমস্যাহলেগোড়াতেইতারপ্রতিকারকরাযাবে।চিকিৎসকেরপরামর্শনিয়েপ্রতিছ’মাসেএকবারকরেস্কেলিংকরিয়েনিলেভাল।স্কেলিংহলদাঁতপরিষ্কারকরা।আগেহাতেকরাহত।এখনমেশিনেরসাহায্যকরা হয়।