ক্যানসার রুখতে কোন ৫ পরীক্ষা করানো জরুরি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আপাত-সুস্থতা। আর তা থেকেই অপার নিশ্চিন্ত ভাব। এটাই কি তা হলে বহু ক্ষেত্রে ক্যানসার নির্ণয়ে দেরি করিয়ে দিচ্ছে? চিকিৎসকেরা বলছেন, ক্যানসার যে ভাবে মহামারির চেহারা নিচ্ছে, তাতে নির্দিষ্ট একটা বয়সের পর বছরে অন্তত এক বার নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো জরুরি। তাই বয়স ত্রিশ পেরিয়ে গেলেই এমন কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে রাখতে হবে, যাতে ক্যানসারের আভাস আগে থেকেই পাওয়া যায়। ক্যানসার গোড়ায় ধরা পড়লে এখন নানা রকম চিকিৎসাপদ্ধতি আছে। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।
ম্যামোগ্রাফি: স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে এই পরীক্ষা খুবই জরুরি। ম্যামোগ্রাফি হল বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যা স্তনের কোষের অনিয়মিত বৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তার রিপোর্ট দিতে পারে। স্তনের ভিতর গজিয়ে ওঠা মাংসপিণ্ড বা টিউমার শনাক্ত করতেও এই পরীক্ষাটি জরুরি। ছত্তীসগঢ় নিবাসী ক্যানসার চিকিৎসক জয়েশ শর্মার মতে, ৪০ বছরের পর মহিলাদের ম্যামোগ্রাম করিয়ে রাখা জরুরি। প্রতি ১ থেকে ২ বছর অন্তর এই টেস্ট করিয়ে রাখা ভাল।
প্যাপ টেস্ট: জরায়ুমুখের ক্যানসার চিহ্নিত করতে প্যাপ টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুমুখ থেকে কোষের নমুনা সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নীচে পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয়, কোষের অস্বাভাবিক বা অনিয়মিত বিভাজন হচ্ছে কি না। সাধারণত ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত প্যাপ টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রতি তিন বছর অন্তর এই পরীক্ষা করিয়ে নিলে নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে স্টেজ জ়িরোতেই ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হয়। জরায়ুমুখের ক্যানসার একেবারে প্রাথমিক পর্বে ধরা পড়লে তার নিরাময় সম্ভব।
স্টুল অকাল্ট ব্লাড টেস্ট: পাকস্থলীর ক্যানসার রুখতে এই পরীক্ষা করানো হয়। মলের মধ্যে লুকনো রক্ত, যা খালি চোখে দেখা যায় না, প্রায়শই কোলোরেক্টাল ক্যানসার বা আলসার, পলিপ বা পাইলসের মতো অন্যান্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় কয়েক দিন ধরে মলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একটি ডেভেলপার প্রয়োগ করে মলের রং পরিবর্তন হচ্ছে কি না দেখে রক্তের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।
লো ডো়জ় সিটি স্ক্যান: যাঁরা অতিরিক্তি ধূমপান করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে ধূমপান করেছেন, তাঁদের বছরে এক বার এই সিটি স্ক্যান টেস্ট করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক শর্মা।
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি): রক্তের এটিই প্রাথমিক পরীক্ষা। যে কোনও অসুখেই করতে বলা হয়, তা অনেকেই জানেন না। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টে কিন্তু রক্তের ক্যানসার লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমাও ধরা পড়ে। ক্যানসার রক্তকোষে ছড়ালে লোহিত রক্তকণিকা ও প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যায় হেরফের হবে, রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণও দেখা দেবে। এই সবই ধরা পড়বে এই টেস্টে।