‘ব্রেক্সটিং’ কেন ক্ষতিকর? ছবি: এআই।
মা হওয়ার আগে যেমন নারীকে একটি দীর্ঘকালীন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সন্তান জন্মের পরে সেই অভিজ্ঞতার ঝুলি আরও সমৃদ্ধ হয়। সন্তান জন্মানোর পরে, মাতৃত্বের প্রথম ধাপ স্তন্যপান করানো বা ব্রেস্ট ফিডিং। সদ্যোজাতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প হয় না। পাশাপাশি, মা ও সন্তানের আত্মিক যোগ গড়ে ওঠে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।
অনেক মা প্রথম প্রথম স্তন্যপান করাতে গিয়ে নানা রকম অসুবিধার সম্মুখীন হন। ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যায় গোটা প্রক্রিয়াটি। শিশুকে স্তন্যপান করানোর বিষয়টি বেশ সময়সাপক্ষ। অনেক মাকেই দেখা যায়, শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে। কেউ ওই সময়টা ওয়েব সিরিজ় দেখার জন্য বরাদ্দ রাখেন, কেউ আবার সমাজমাধ্যমে চ্যাট করতে ব্যস্ত থাকেন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে স্তন্যপান করানো এখন খুবই একটি সাধারণ বিষয়। চিকিৎসকদের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্রেক্সটিং’। তবে এই কাজ কিন্তু সন্তানদের জন্য মোটেও ভাল নয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
শিশুরোগ চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, স্তন্যপানের সময় মোবাইল ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। নিজের বিনোদনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে এ ক্ষেত্রে মায়েরা শিশুর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন। অর্পণ জানালেন ‘ব্রেক্সটিং’-এর ফলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
১) স্তন্যপানের সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন হরমোনের ক্ষরণ হয়। এই হরমোনের ক্ষরণ যত বাড়বে, স্তনদুগ্ধের পরিমাণও ততই বাড়বে। মোবাইল ব্যবহার করতে করতে স্তন্যপান করালে এই হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। তাই স্তনদুগ্ধের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
২) শিশু যখন স্তন্যপান করে তখন কিন্তু সে মায়ের চোখের দিকে তাকায়। এটা হল এক প্রকার ‘নন ভার্বাল কমিউনিকেশন’ অর্থাৎ মায়ের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ হয় স্তন্যপান করানোর সময়। ওই সময় মা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকলে মায়ের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক স্থাপন বা ‘ইমোশানাল বন্ডিং’ তৈরি হয় না।
৩) মোবাইল ফোন থেকে রেডিয়েশন বার হয়, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক।