ঋতুস্রাবের সময় কি রক্তদান করা স্বাস্থ্যকর ? ছবি: এআই।
এখনও রক্তদান নিয়ে নানা মানুষের মধ্যে নানা সংশয়। রক্ত দেওয়ার আগে বহু মানুষ ভাবনায় পড়ে যান, আদৌ কাজটা ঠিক হচ্ছে তো? সাধারণত, এক জনের দেহ থেকে এক বারে এক ইউনিট রক্ত নেওয়া হয়। এর ফলে দাতার কোনও ক্ষতিও হয় না। তবে, ইচ্ছে থাকলেও যে কেউ রক্ত দিতে পারবেন, তা নয়। বিশেষ কোনও রোগের ক্ষেত্রে বা হেপাটাইটিস বি, রেবিজ টিকা নেওয়ার পর ছ’মাস রক্তদান করা উচিত নয়। রক্তদান করলে আপনি যেমন এক জনের প্রাণ বাঁচাতে পারেন, তেমনই রক্তদান করা আপনার শরীরের পক্ষেও দারুণ উপকারী। অনেকে আবার ভাবেন, ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলাদের রক্তদান করা ঠিক নয়। এই ধারণা কি ঠিক?
রক্তদান করার আগে চিকিৎসকেরা দাতার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, রক্তচাপ, ওজন, সামগ্রিক সুস্থতার মতো কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যসূচক মূল্যায়ন করে নেন। সেই তালিকায় কিন্তু ঋতুস্রাবের কোনও উল্লেখ নেই। এক জন সুস্থ মহিলা যাঁর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক, তিনি কিন্তু ঋতুস্রাব চলাকালীন অনায়াসেই রক্তদান করতে পারেন।
ঋতুস্রাব চলাকালীন শরীর থেকে গড়ে প্রায় ৩০-৮০ মিলিলিটার রক্ত বেরিয়ে যায়। অন্য দিকে রক্তদানের সময় সাধারণত দাতার শরীর থেকে প্রায় ৪৫০-৫০০ মিলিলিটার রক্ত নেওয়া হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার সেই রক্ত তৈরি হয়ে যায়। তাই ঋতুস্রাব চলাকালীন রক্তদান করলে যে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে, এমন নয়। চিকিৎসদের মতে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক থাকলে ঋতুস্রাব চলাকালীন রক্তদানে শরীরের কোনও ক্ষতি হয় না। তবে যাঁদের ঋতুস্রাবের সময় অরিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, তাঁদের রক্তদানের আগে এক বার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই ভাল।
অনেকের ধারণা, ঋতুস্রাব চলাকালীন রক্তদান করলে রক্তের গুণমান খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, রক্তদানের সময় বাহুর শিরা থেকে মূলত রক্ত সংগ্রহ করা হয়, প্রজননতন্ত্রের সঙ্গে এর কোনও রকম সম্পর্ক নেই। আর দাতার শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করার পর ঠিকমতো পর্যবেক্ষণের পরেই রোগীকে দেওয়া হয়, তাই ভয়ের কোনও কারণ নেই।