Drinking Water Safety

খালি চোখে ধরা না পড়লেও জীবাণু গিজগিজ করতে পারে! কী ভাবে বুঝবেন, আপনার পানীয় জল নিরাপদ

অনেক সময়ে জল দেখতে একেবারে স্বচ্ছ হলেও তার মধ্যে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই খাওয়ার জল নিয়ে এই সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা দরকার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:১০
Share:

পানীয় জলের সুরক্ষা নিয়ে ৭ বিষয়ে সতর্ক থাকুন? ছবি: সংগৃহীত।

বর্ষার সময়েই সবচেয়ে বেশি জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়েরিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, পেটের সংক্রমণ— এমন নানা সমস্যা বর্ষাকালে হঠাৎ বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ পানীয় জলের দূষণ। অনেক সময়ে জল দেখতে একেবারে স্বচ্ছ হলেও তার মধ্যে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। খালি চোখে ধরা না পড়লেও জলের ভিতরে নানা ধরনের ক্ষতিকারক অণুজীব থাকতে পারে। তাই খাওয়ার জল নিয়ে এই সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা দরকার।

Advertisement

জলপানের আগে কী কী মাথায় রাখবেন? ছবি: সংগৃহীত

বর্ষায় পানীয় জল নিয়ে ৭টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে

১. স্বচ্ছ মানেই স্বাস্থ্যকর নয়: অনেকেই মনে করেন, জলে কোনও গন্ধ নেই, রং নেই, ভাসমান কিছু নেই, তাই সেটি নিশ্চিন্তে পান করা যায়। কিন্তু এ ধারণা ভুল হতে পারে। অনেক ক্ষতিকর জীবাণু খালি চোখে দেখা যায় না। ফলে জল পরিষ্কার দেখালেও তা সংক্রমণের উৎস হতে পারে।

Advertisement

২. ফোটানো জলই সেরা নয়: রোগজীবাণু ও ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য জল ফুটিয়ে নেওয়া খুব সাধারণ এক চল। তবে মনে রাখা জরুরি, জল ফোটানোর পদ্ধতিতে শুধুমাত্র জৈবিক জীবাণুগুলি নষ্ট হয়, জলে মিশে থাকা সিসা, আর্সেনিক, কীটনাশক বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান তা দূর করতে পারে না। জল ফোটানোর পাশাপাশি ভাল মানের ওয়াটার পিউরিফায়ার বা পরিশোধন ব্যবস্থা ব্যবহার করা সবচেয়ে জরুরি।

৩. সংরক্ষণে নজর: অনেক সময় দেখা যায়, পানীয় জল হয়তো শুদ্ধ, কিন্তু রাখার ভুলে তা দূষিত হয়ে যেতে পারে। জল রাখার বোতল, জগ বা ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে জীবাণু জন্মাতে পারে। ফলে নিরাপদ জলও পরে দূষিত হয়ে যেতে পারে।

বর্ষায় পানীয় জল নিয়ে ৭টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ছবি: সংগৃহীত

৪. বাইরের জলে সতর্কতা: রাস্তার ধারের শরবত, কাটা ফল, ফুচকা বা বরফ দেওয়া পানীয় বর্ষাকালে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ ব্যবহৃত জল কতটা নিরাপদ, তা সব সময়ে জানা যায় না। বিশেষ করে বরফ তৈরিতে ব্যবহৃত জল যদি বিশুদ্ধ না হয়, তা হলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫. শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা: শিশু, প্রবীণ এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাঁরা জলবাহিত রোগে দ্রুত আক্রান্ত হতে পারেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ জল খাওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৬. পাইপলাইনে নজর: প্রবল ঝড়বৃষ্টি হলে পানীয় জলের পাইপলাইন দিয়ে নোংরা, দূষিত জল প্রবেশ করতে পারে। সে বিষয়ে প্রতি বার বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।

৭. রাতারাতি দূষণ: বৃষ্টি সরাসরি জল দূষণের কারণ নয়। কিন্তু বৃষ্টি এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে ব্যাক্টেরিয়া অতি সহজে জলের উৎসকে দূষিত করে দেয়। রাস্তার জমা জল, বন্যার জল, নর্দমায় জমা জল, ক্ষেতের রাসায়নিক সার ধোয়া জল এবং ফুটো হওয়া পাইপলাইন— এ সবের কারণে রাতারাতি পানীয় জল দূষিত হয়ে যেতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement