মন্দিরা বেদীর ফিটনেসের ঝলক। ছবি: সংগৃহীত।
ক্রীড়া-সঞ্চালিকা মন্দিরা বেদীর ইনস্টাগ্রাম জুড়ে ব্যায়াম ও ফিটনেসের ঝলক। পেটের মেদ ঝরাতে সাহায্য করতে পারে মন্দিরার ৬টি ব্যায়াম। মেঝেতে অল্প একটু জায়গা পেলেই আরামে ব্যায়াম করা যায়। আর তাই মন্দিরা এগুলি ‘যত্রতত্র, যখন খুশি’ অনুশীলন করেন বলে জানিয়েছেন।
৬টি ব্যায়ামই কোর পেশিকে মজবুত করে। আর দেহের এই বিশেষ অংশের পেশি গোটা শরীরের ভার বহন করে। হাঁটাচলা, বসা, নিচু হওয়া, দাঁড়িয়ে থাকা, ভারী জিনিস তোলা— যে কোনও কাজের জন্য কোর পেশির সাহায্যই প্রয়োজন।
শিখে নিন সেই ব্যায়ামগুলি—
১. রাশিয়ান ট্যুইস্টস
মেঝেতে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বুক পর্যন্ত তুলে নিতে হবে। ও দিকে মাথাও মেঝে থেকে তুলে শূন্যে রাখতে হবে। মেঝে থেকে ৪৫ ডিগ্রি উঁচুতে রাখতে হবে কোমর অবধি। দু’টি হাত জোড়া করে এক বার ডান দিকের কোমরের কাছে, এক বার বাঁ দিকের কোমরের কাছে নিয়ে যেতে হবে। দুই পা এবং ঊর্ধ্বাঙ্গ একই ভাবে শূন্যে ভেসে থাকবে।
২. টো টাচেস
নাম শুনেই বোঝা যায়, এই ব্যায়ামের মূল লক্ষ্য হল, হাতের সাহায্যে পায়ের আঙুল ছোঁয়া। মাটিতে শুয়ে পা দু’টি একেবারে সোজা করে মাটি থেকে ৯০ ডিগ্রি কোণে তুলে রাখতে হবে। বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের আঙুল, ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের আঙুল ছুঁতে হবে। এতে হাত ও পায়ের পেশিগুলির শক্তি কাজে লাগে। নিয়মিত করলে পিঠের নমনীয়তা যেমন বাড়ে, তেমনই শরীরের ভারসাম্যও উন্নত হয়।
৩. স্লো বাইসাইকেল
মেঝেতে বসে পা দু’টি শূন্যে তুলে রাখতে হবে। তার পর ধীরে ধীরে চালাতে হবে সাইকেলের মতো। চাইলে মন্দিরার মতো ঊর্ধ্বাঙ্গ মেঝে থেকে তুলে রাখতে পারেন। পায়ের পেশিগুলিকে সচল ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে এই ব্যায়াম। খুব সহজেই বাড়িতে অভ্যাস করা যায়।
৪. ডেড বাগ
মেঝেতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন এবং পেটের পেশিগুলি টানটান করে রাখুন। এর পর হাঁটু ভাঁজ করে মেঝের সঙ্গে সমান্তরাল রাখুন পা। হাত দু’টি সোজাসুজি ছাদের দিকে প্রসারিত করে রাখুন। এ বার ধীরে ধীরে ডান হাত ও বাঁ পা একসঙ্গে নামিয়ে মেঝের সমান্তরালে নিয়ে আসুন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন তা মেঝে স্পর্শ না করে। ধীরে ধীরে বিপরীত হাত ও পায়েও একই কাজ করলে কোরের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
৫. ক্রাঞ্চ
মাটিতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। তার পরে হাঁটু দু’টি ভাঁজ করে পা রাখতে হবে মাটিতে। হাত দু’টি মাথার পিছনে রাখতে হবে। শুধু কাঁধ ও পিঠের উপরের অংশকে মাটির থেকে যথাসম্ভব উপরে তুলতে হবে। ও ভাবে কিছু ক্ষণ থেকে আবার ফিরতে হবে আগের অবস্থায়।
৬. লেগ রেইজ়েস
পা দু’টি জড়ো করে হাঁটু থেকে ভাঁজ করে যতটা সম্ভব মাথার কাছে নিয়ে আসতে হবে। এ সময়ে হাত মেঝেতে থাকতে পারে অথবা মাথার পিছনেও রাখতে পারেন। এতে তলপেটের পেশি মজবুত হয়।