পুরুষদের জন্য কি সয়াবিন খাওয়া নিরাপদ নয়? ছবি: সংগৃহীত।
নিরামিষের মধ্যে সয়াবিনের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খুব কমই আছে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সয়াবিন সব বয়সিদের জন্যই সমান উপকারী। ওজন ঝরানোর ডায়েটেও সয়াবিন রাখা যায়। ওজন কমাতে হলে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে বেশি করে। সয়াবিনে ফাইবারের পরিমাণ অন্যান্য খাবারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। তাতে হজম সংক্রান্ত যে কোনও গোলমাল সহজেই বিদায় নেবে। ওজনও বাড়তে পারবে না। অনেক খাবার প্রোটিনসমৃদ্ধ হলেও, সঙ্গে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই ফ্যাট বিশেষ শরীরবান্ধব নয়। তবে সয়াবিনে সেই গোত্রে পড়ে না। কারণ সয়াবিনে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম। যে কারণে রোজ সয়াবিন খেলেও খারাপ কোলেস্টেরল কমবে। সঙ্গে হার্টের রোগের ঝুঁকিও কমবে।
সয়াবিন সংক্রান্ত ৫ ভ্রান্ত ধারণা থাকায় অনেকেই সয়াবিন খেতে চান না। জেনে নিন, সেগুলি কী কী।
সয়াবিন খেলে পুরুষদের স্তন বেড়ে যায়: সয়ায় আসলে ফাইটোইস্ট্রোজেন থাকে, এটা ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করলেও কখনওই ইস্ট্রোজেনের সমান নয়। রোজ কিলো কিলো সয়াবিন খেলে তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে স্তন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে পরিমিত মাত্রায় খেলে কোনও রকম ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
থাইরয়েড থাকলে সয়াবিন খেতে নেই: থাইরয়েডের রোগীরাও পরিমিত মাত্রায় সয়াবিন খেতে পারেন। এতে কোনও রকম সমস্যা নেই। তবে একটি বিষয়ে তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে। থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সয়াবিন খাওয়া চলবে না। অন্তত ৩-৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সয়াবিন খেতে হবে।
সয়াবিন খেলে শরীরে হরমনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়: সয়াবিন ৯ রকম প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডযুক্ত প্রোটিনে ভরপুর। মহিলাদের শরীরে প্রোটিনের অভাব পূরণ করতে সয়াবিন ভাল উৎস হতে পারে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সয়াবিন সাহায্য করে। বিশেষ করে, রজোনিবৃত্তির সময় ডায়েটে সয়াবিন রাখলে মহিলারা অনেক বেশি উপকার পাবেন।
সয়াবিন খেলে পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে: যাঁদের পেটের সমস্যা রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে সয়াবিন খেলে গ্যাস, বদহজমের সমস্যা হতে পারে। তবে সয়াবিন রান্না করার আগে যদি গরম জলে বেশ কিছু ক্ষণ ভিজিয়ে রাখা হয়, আর রান্নার সময় ভাল করে সেদ্ধ করে নেওয়া হয়, তা হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সয়াবিন রোজ খাওয়া যায় না: সয়াবিনে মুরগির মাংসের সমপরিমাণ প্রোটিন থাকে। এটি রোজ খেলেও কোনও রকম সমস্যা নেই। তবে খাওয়ার সময় নিশ্চিত করতে হবে যে, কেবল সয়াবিন থেকেই যেন শরীরে প্রোটিন না যায়। বিভিন্ন উৎস থেকে যাতে শরীরে প্রোটিন পৌঁছোয়, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। তবে ক্রনিক অসুখ থাকলে ডায়েটে বদল আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।