স্তন বাদ দিতে হবে না, টিকাই ধ্বংস করবে ক্যানসার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ওষুধ ইতিপূর্বে এসেছে। তবে টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। আমেরিকার লং আইল্যান্ডের স্টোনি ব্রুক ক্যানসার সেন্টারে স্তন ক্যানসারের টিকা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে মানুষের শরীরেও। স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে টিকাটি সহায়ক হতে পারে বলেই দাবি গবেষকদের।
৪১ বছর বয়সি ক্রিস্টিনা অ্যামিট্রানো বছর ছয়েক আগে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁকে টিকাটির ডোজ় দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই নিরাময়ের পথে বলে জানা গিয়েছে। এই টিকা প্রতিরোধমূলক নয় যে, আগে থেকে দিয়ে রোগের আশঙ্কা কমানো হবে। এটি ‘থেরাপিউটিক’, অর্থাৎ, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদেরই দেওয়া হবে। বিশেষ করে স্তন ক্যানসারের তৃতীয় বা চতুর্থ পর্বে চলে গিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের ক্যানসার নির্মূল করাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
টিকাটির কাজ হবে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেওয়া। টিকার ওষুধ রক্তে মিশে গিয়ে শরীরের প্রতিরোধী কোষগুলিকে জাগিয়ে তুলবে। ক্যানসার তৈরি করতে পা্রে, এমন অ্যান্টিজেন বা প্রোটিনগুলিকে চিনিয়ে দেবে, যাতে পরবর্তী সময়ে তেমন প্রোটিনকে কোষে কোষে ঘোরাফেরা করতে দেখলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া যায়। সরাসরি সেই প্রোটিনকে নিশানা করে তাকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। অর্থাৎ, ক্যানসার ডালপালা মেলার আগে তার বিষকে নষ্ট করে দেওয়াই এই টিকার মূল কাজ হবে।
স্তন ক্যানসার এক বার হলে তা বছর পাঁচেক বা ছয়েক পরে আবারও ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ‘ট্রিপল নেগেটিভ’ স্তন ক্যানসার সবচেয়ে বিপজ্জনক। এ ক্ষেত্রে ‘এইচআর২’ প্রোটিন সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে এই ধরনের ক্যানসার যেমন তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে, তেমনই বার বার ফিরেও আসতে পারে। ক্যানসার হলে রক্তে এক ধরনের প্রোটিনের বাড়বৃদ্ধি হয় যার নাম ‘আলফা-ল্যাক্টালবুমিন’। মহিলাদের শরীরে এই প্রোটিন থাকেই, তবে ক্যানসারের সময়ে এর মাত্রা বেড়ে যায়। নতুন টিকার কাজ হবে এই প্রোটিনটিকেই নিশানা করা, যাতে ক্যানসার কোষ বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় না বাড়তে পারে। ক্যানসারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, এমন সমস্ত প্রোটিনকে নষ্ট করে দিয়ে ক্যানসার নির্মূল করে দেওয়াই হবে এর কাজ। সে পথে টিকাটি অনেকটাই সাফল্য পাচ্ছে বলেও দাবি গবেষকদের।