Synthetic Cell

খোদার উপর খোদকারি! বিশ্বে প্রথম জীবন্ত কোষ তৈরি করে ফেললেন বিজ্ঞানীরা, কী সুবিধা হবে এতে?

মানব শরীরের বাইরেই তৈরি হল দেহকোষ। তার আকার-আকৃতি, স্বভাব-বৈশিষ্ট্য সবই মানুষের কোষের মতোই। সেটি আকারেও বাড়বে আবার সংখ্যাতেও। এমন অসাধ্য সাধন হল কী ভাবে? এতে লাভই বা কোথায়?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪৪
Share:

জীবন্ত কোষ নড়াচড়া করবে, সংখ্যাতেও বাড়বে। ছবি: ফ্রিপিক।

কৃত্রিম কোষ তৈরি করা কি সম্ভব? এই প্রশ্ন বহু সময় ধরেই বিজ্ঞানীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। জনন কোষ অর্থাৎ, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কৃত্রিম ভাবে তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন জাপান, চিন, আমেরিকার বিজ্ঞানীরা। তা অনেকটাই সাফল্যের পথে। কিন্তু মানুষের দেহকোষ, তা কি শরীরের বাইরে তৈরি করা সম্ভব? এমন কাজও করে ফেলেছেন আমেরিকার মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির গবেষক কেট আদামালা ও তাঁর সতীর্থেরা। বিশ্বে প্রথম জীবন্ত দেহকোষ তৈরি হয়েছে মানুষের শরীরের বাইরেই। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পাডসেল’। সে কোষ নড়াচড়াও করে, আকারে বাড়ে আবার বিভাজিত হয়ে সংখ্যাতেও বৃদ্ধি পায়।

Advertisement

কোষ মানেই তাতে জিন বা ডিএনএ থাকবে। সে-ই হল কোষের মূল ভিত্তি। কোষটি কী ভাবে কাজ করবে, কখন সংখ্যায় বাড়বে, কোন অঙ্গে গিয়ে সে থিতু হবে, এ সবই ঠিক করে দেয় জিন। কৃত্রিম কোষে তো তা সম্ভব নয়! তবে সেখানেও ভেলকি দেখিয়েছেন গবেষকেরা। বিজ্ঞানী কেট জানিয়েছেন, কৃত্রিম কোষকে চালনা করার জন্য কৃত্রিম ডিএনএ তৈরি করা হয়েছে। আসল ডিএনএ-র মতো তার ভিতরেও শরীরের খবরাখবর থাকবে, সেই অনুযায়ী কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

কৃত্রিম কোষ তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

কৃত্রিম কোষ তো তৈরি হল, কিন্তু সেটি সংখ্যায় বাড়বে কী ভাবে? সে ব্যবস্থাও করে রেখেছেন গবেষকেরা। আসল কোষের বাইরে যে কোষপর্দা থাকে, সেখান দিয়ে খাবার ও পুষ্টিরস কোষের ভিতরে পৌঁছয়। সেই পুষ্টি পেয়েই কোষ আকারে বড় হয় এবং সংখ্যাতেও বাড়ে। কৃত্রিম কোষের গায়েও তেমনই বিশেষ পর্দা সেঁটে দিয়েছেন গবেষকেরা। রয়েছে প্রোটিন ও ফ্যাটের আস্তরণও। কোষের ভিতরে ও বাইরে লাগিয়েছেন সেন্সর। কোষটিকে কোন কাজে লাগানো হবে, তার সমস্ত তথ্য রাখা হয়েছে কৃত্রিম ডিএনএ-র ভিতরে। এই ভাবেই কোষটি সর্বগুণসম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Advertisement

কৃত্রিম কোষের কাজ কী হবে?

বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হবে এমন কোষকে। স্টেম কোষ নিয়ে চিকিৎসা ব্যর্থ হলে, সিন্থেটিক কোষ সে জায়গা নেবে। ক্যানসারের চিকিৎসায় এই কোষের প্রয়োগ করা যেতে পারে। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে সুস্থ কোষগুলি নষ্ট হতে থাকে। কিন্তু কৃত্রিম কোষ হবে না। উপরন্তু, এই কোষ দিয়ে ক্যানসার নির্মূল করাও সম্ভব হতে পারে।

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম কোষের প্রয়োগ করা যেতে পারে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরে সেই অঙ্গটির কার্যক্ষমতা যাতে বজায় থাকে, সে জন্য এমন কৃত্রিম কোষের প্রয়োগ করা যেতে পারে।

স্মার্টফোনের মতো প্রোগ্রামিং থাকবে এ কোষে, যাকে বাইরে থেকে চালনা করতে পারবেন গবেষকেরা। হৃদ্‌যন্ত্রের দুরারোগ্য রোগ ও মস্তিষ্কের জটিল রোগের চিকিৎসায় এমন কোষ ব্যবহার করলে, রোগীর বেঁচে থাকার সময়কাল আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement