Shigellosis Alert in Kerala

কেরলে প্রাণঘাতী শিগেলার সংক্রমণে মৃত্যু শিশুকন্যার, কী এই রোগ? করোনার মতোই কি ছোঁয়াচে?

কেরলের নানা জেলায় শিগেলার সংক্রমণ ঘটেছে। আক্রান্ত বহু মানুষ। চার বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। রোগটি কী? কতটা ছোঁয়াচে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১২:১০
Share:

শিগেলার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, কতটা ভয়াবহ এই রোগ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কেরলে ফের ছড়িয়েছে শিগেলার আতঙ্ক। আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কোঝিকোড়ে চার বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যুর পরেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তদের রিপোর্ট অনুযায়ী, শিগেলা এক প্রকারের ব্যাক্টেরিয়া, যা সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। কেরলের নানা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ওয়েনাড়ের একটি স্কুলে বহু শিশুর মধ্যে পেটের রোগ ও বমির উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সেটি শিগেলা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের কারণেই ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

কতটা প্রাণঘাতী এই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ?

দূষিত জল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে ছড়ায় শিগেলা ব্যাক্টেরিয়া। আর পাঁচটা ব্যাক্টেরিয়ার থেকে এর চরিত্র আলাদা। এরা শরীরে ঢুকলে সরাসরি পরিপাকতন্ত্রকে আক্রমণ করে। সেখানে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে। শিগেলা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে যে ধরনের রোগ হয়, তাকে বলে শিগেলোসিস। এর একটি লক্ষণ হল রক্ত আমাশয়। এটি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে যে, রোগীর প্রাণসংশয়ও হতে পারে। আক্রান্তের শরীর থেকে এই ব্যাক্টেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনাভাইরাস যেমন থুতু-লালার মাধ্যমে ছড়ায়, শিগেলা তেমনই আক্রান্তের মল-মূত্র থেকে ছড়াতে পারে। তা ছাড়া সংক্রমিতের লালার মাধ্যমেও সুস্থ মানুষের শরীরে খুব তাড়াতাড়ি সেঁধিয়ে যেতে পারে এই ব্যাক্টেরিয়া।

Advertisement

শিগেলার রোগ ছড়ানোর ক্ষমতাটিও মারাত্মক। জল বা দূষিত খাবারের মাধ্যমে বা আক্রান্তের শরীর থেকে সেটি সুস্থ মানুষের শরীরে ঢুকলে আগে পাকস্থলীতে গিয়ে বাসা বাঁধে। এর ক্ষমতা এতটাই যে পাকস্থলীর তীব্র অ্যাসিডের জ্বালাও কাটিয়ে উঠতে পারে। তার পর সেখানে বংশবৃদ্ধি করে সরাসরি কোলন বা বৃহদন্ত্রে গিয়ে ক্ষত তৈরি করে। ফলে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। রোগীর পেটে ব্যথা, তীব্র ডায়েরিয়া, বমি, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হতে থাকে।

কাদের আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেশি?

শিগেলা শরীরে ঢুকলে ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে শুরু করে। ঘন ঘন কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে রোগীর। সঙ্গে পেটে যন্ত্রণা, বমি, ডায়েরিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। মলের সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস বার হতে শুরু করে। শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে তীব্র জলশূন্যতা হয়। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, মরসুম বদলের সময়ে সাধারণ ডায়েরিয়া বেশি দেখা গেলেও শিগেলোসিস কমই হয়। তবে ইদানীংকালে রোগটির প্রকোপ বেড়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলেও রোগটি হতে পারে। বাসি খাবার, রাস্তার কাটা ফল, শরবত, দূষিত জল এবং পচা খাবার থেকে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেতে অভ্যস্ত। সেগুলি তৈরির সময়ে পরিচ্ছন্নতার বিধি মানা হয় না অনেক জায়গাতেই। তা ছাড়া মাছ বা মাংস যে ধরনের রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়, সেগুলি থেকেও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে। রাস্তায় বিক্রি হওয়া কোনও খাবারই সুরক্ষিত নয়। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শই দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement