সমস্যা পেটের না কি লিভারের, বোঝা যায় না চট করে। কোন উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? ছবি: সংগৃহীত।
বছর বারোর রোহন। কয়েক দিন ধরে মাঝেমধ্যে গ্যাস-অম্বল হচ্ছিল। খিদে তেমন পাচ্ছিল না। মাকে বলতেই বকাবকি করলেন, এই সব বাইরে খাওয়ার ফল। দু’দিন হালকা খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। হালকা খাবার দু’দিন নয়, সপ্তাহখানেক খেয়েও অস্বস্তি কাটছিল না। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষায় জানা গেল তার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে।
অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার ফলে লিভারে মেদ জমে অনেকেরই। তবে শুধু খাওয়ার ভুলে নয়, আরও নানা কারণে এই সমস্যা হতে পারে। লিভার সাধারণত ৫ থেকে ৬ শতাংশ চর্বি শোষণ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি চর্বি জমা হতে থাকলেই তা বিপজ্জনক। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা দ্রুত এবং সময়মতো না করলে তা থেকে বড়সড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে, কার্যত শরীরে গুরুত্বপূর্ণ কাজই বন্ধ হয়ে যাওয়া। সেই কারণে, চিকিৎসকেরা ফ্যাটি লিভার নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন।
মুশকিল হল, সমস্যা যে ধরা পড়বে, তার জন্য রোগীকে চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। কিন্তু রোগী নিজেই যদি সমস্যা না বোঝেন, তা হলে অসুখ চিহ্নিত হতেও দেরি হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা একেবারে শুরুর দিকে রোগী সে ভাবে টের পান না। সেই কারণে, আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ উপসর্গগুলিও এড়িয়ে না যাওয়াই ভাল।
অল্প খেলেই পেট ফুলে যাওয়া: অল্প খাচ্ছেন, কিন্তু তাতেই মনে হচ্ছে পেট ফুলে গেল। অস্বস্তি শুরু হল। লিভার থাকে পেটের উপরের অংশ। এই অংশ হালকা ফুলে থাকলে বা নিয়মিত সেখানে অস্বস্তি বোধ হলে, বদহজম বা পেটফাঁপার সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না যাওয়াই ভাল। লিভারে ফ্যাট জমলে, সেটি আকারে বেড়ে যায়। সে কারণে খেতে সমস্যা হতে পারে।
পেটের উপরের অংশে অস্বস্তি: অনেক সময় তেমন ব্যথা না হলেও, পেটের উপরের দিকে ডান অংশে হালকা ব্যথা অনুভব হয়। এক-আধ দিন হলে এক রকম, তা যদি প্রায়ই হয়, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ, এই ধরনের ব্যথা খুব হালকা হয়, লোকে ধরেই নেন গ্যাসের ব্যথা। ভাজাভুজি বা মশলাদার খাবার খাওয়ার পরে বা অনেক ক্ষণ বসে থাকলে এমনটা হয়। কিন্তু ফ্যাটি লিভারের জন্যও এই অস্বস্তি বা কষ্ট হতে পারে।
সব সময়ই পেটফাঁপা: ঘরোয়া খাবার খাচ্ছেন, কমই খাচ্ছেন, তবুও হজমের সমস্যা হচ্ছে। পেট ফাঁপছে। লিভারে ফ্যাট জমলে এই ধরনের সমস্যাও দেখা দেয়। অনেক সময় রোগী বুঝতে পারেন না, কেন এত অল্প খাবারেও হজম হচ্ছে না। গ্যাস হয়েছে বলে মনে হয়। বিশেষত ঘন ঘন এই লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।
ভীষণ ক্লান্তি: বদহজম হতেই পারে, তবে তার সঙ্গে যদি ক্লান্তিও জুড়ে থাকে, তা হলে তা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হজম ঠিক না হলে গা-বমি হয়। কষ্ট হয়। কিন্তু তাতে ক্লান্ত হন না কেউ। কিন্তু পেটের সমস্যা, ক্লান্তি একই সঙ্গে ক্রমাগত চললে বুঝতে হবে, সমস্যা হতে পারে লিভারে। লিভার ঠিক ভাবে কাজ না করার ফলে এমনটা হয়।
বমি ভাব: ভাজাভুজি খাচ্ছেন না, পেটখারাপ হয়নি। অথচ গা-বমি ভাব। বমি হচ্ছে না কিন্তু শরীরে অস্বস্তি হচ্ছে। এই উপসর্গ কিন্তু অনেক সময়েই হয়। এক, দুই দিনে তা না কমলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ফ্যাটি লিভারের এটিও একটি লক্ষণ।