Hantavirus Outbreak

হান্টাভাইরাসের হানায় আটলান্টিকের প্রমোদতরীতে মৃত্যু ঘিরে আতঙ্ক, কী এই ভাইরাস? কতটা বিপজ্জনক?

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিয়ে বিপদে প্রায় ১৫০ জন। কী এই ভাইরাস, কেন আতঙ্ক বাড়ছে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১১:২৩
Share:

হান্টার আতঙ্ক, কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাস? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হান্টাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসের তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর পরেই এই ভাইরাস নিয়ে আলোচনা চলছে। হান্টা কী, এই ভাইরাস কী ধরনের, তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। অনেকের স্মৃতিতেই আবার ফিরে এসেছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক।

Advertisement

হান্টাভাইরাস নিয়ে খবর হওয়ার কারণ হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রমোদতরীতে শুধু মৃত্যু নয়, বহুজনের সংক্রমিত হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। তার পরেই চিন্তা বেড়েছে। জারি হয়েছে সতর্কতা।

কতটা বিপজ্জনক হান্টাভাইরাস?

Advertisement

হান্টা নতুন কোনও ভাইরাস নয়। মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীদের মাধ্যমে ছড়ায়। জুনোটিক ভাইরাস যা পশুর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। করোনার মতোই হান্টা আরএনএ ভাইরাস। দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার খুব তাড়াতাড়ি তাদের জিনের রাসায়নিক বদল বা মিউটেশনও ঘটাতে পারে। হু জানাচ্ছে, এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকে পড়লে সবচেয়ে আগে ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে।

বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করেও ছড়াতে পারে হান্টাভাইরাস। ইঁদুর জাতীয় প্রাণীয় মলমূত্র, দেহাবশেষ থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। হান্টার সংক্রমণ ঘটলে প্রাথমিক লক্ষণে জ্বর, পেশির ব্যথা ও পেশির খিঁচুনি শুরু হয় রোগীর। ধীরে ধীরে ভাইরাস ঢুকে পড়ে শ্বাসনালিতে। সেখানে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে ও শেষে ফুসফুসে গিয়ে বাসা বাঁধে। এর সংক্রমণে ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ দেখা দেয় যাতে ফুসফুস বিকল হতে শুরু করে। মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয় রোগীর। ফুসফুসে জল জমতে থাকে।

ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশে হান্টার হানায় হেমারেজিক ফিভার ও রেনাল সিনড্রোমও দেখা দিয়েছে আগে। এতে কিডনি তার কার্যক্ষমতা হরাতে থাকে এবং শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। তখন রোগীর প্রাণসংশয় ঘটে।

ভারতে ভয় কতটা?

ইউরোপ বা আমেরিকার মতো ভারতে হান্টার সংক্রমণ খুব বেশি ঘটেনি। ২০০৫ সালে চেন্নাইয়ে এক উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৬ সালে মুম্বইয়ে হান্টার হানায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর পরে দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গায় এই ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল নানা সময়ে।

আমেরিকার সেন্টার ফর ড্রাগ কন্ট্রোল জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। ভাইরাসটি যদি বহুজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তা হলে আতঙ্কের কারণ ঘটতে পারে। এই ভাইরাসকে কাবু করার কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ও টিকা নেই। ভাইরাসটিকে শনাক্ত করাও কঠিন। তাই সাবধানে না থাকলে বিপদ ঘটতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement