কেন খান লেবুর জল, কেউ করেন যোগাসন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা সর্বত্র। ফুটবল মানেই যেখানে গতি, তারুণ্য আর পেশির জোর, সেখানে এ বারের বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপাচ্ছেন এমন কয়েকজন খ্যাতনামা ফুটবলার যাঁদের বয়স স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র। কেউ খেলছেন ১৫ বছর, কেউ ২০ বছরেরও বেশি। ফুটবল বিশ্বকে বছরের পর বছর শাসন করার পরও তাঁদের ফিটনেস ঈর্ষণীয়। প্রকৃতির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বিশ্বখ্যাত ‘বয়স্ক’ ফুটবলাররা কী ভাবে তাঁদের শক্তি ধরে রেখেছেন তা সত্যিই বিস্ময়কর! মেসি কখনওই ক্লান্ত হন না, রোনাল্ডো এখনও তারুণ্যে ভরপুর। এ যেন বুড়ো হাড়ে ভেলকি! এর রহস্য কী?
লিয়োনেল মেসি
৩৯ বছরেও হ্যাট্রিকের রেকর্ড করছেন ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ লিয়োনেল মেসি। ফুটবলপ্রেমীরা বলেন, মেসি চিরতরুণ। তাঁর পায়ের জাদু দেখতে উন্মাদনার শেষ নেই। ২১ বছর ধরে খেলছেন, এখনও মাঠে নেমে ক্লান্ত হন না মেসি। এর রহস্য হল যোগব্যায়াম। নিয়মিত যোগাসন অভ্যাস করেন। উত্তনাসন, অধোমুখ শবাসন, কাকাসনের মতো যোগব্যায়াম নিয়মিত করেন। চিনি, ময়দা তাঁর ডায়েটে জায়গা পায়নি। ডায়েট সোডা ছুঁয়েও দেখেন না। বদলে ভেষজ চায়ে চুমুক দিয়েই তরতাজা থাকেন।
নিয়মিত যোগাসন করেন মেসি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
২০০৩ সাল থেকে মাঠে নেমেছেন। বয়স ৪১ বছর হলে কী হবে, তাঁর চেহারায় এখনও কুড়ির তারুণ্য। এ বারের বিশ্বকাপেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু পতুর্গালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নিয়ম করে সকালে লেবুর জল খান সিআর৭। তাঁর পছন্দের ব্যায়াম হল পিলাটেজ়। পিলাটেজ় শরীরচর্চার এমন এক পদ্ধতি, যা যন্ত্রপাতি ছাড়াই করা যায়। এই ব্যায়ামে কার্ডিয়ো, স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের মতোই উপকার পাওয়া যায়, আবার যোগাসনের মতো নানা ভাবে শরীরের স্ট্রেচিংও হয়।
পিলাটেজ় খুব পছন্দ রোনাল্ডোর।
লুকা মদ্রিচ
ফুটবলের মাঠে নয় নয় করেও ২০ বছর পার করে ফেলেছেন ৪১ বছরের লুকা মদ্রিচ। ক্রোয়েশিয়ার এই তারকা ফুটবলারের গতি ও পেশির জোর অন্যান্য তরুণ ফুটবলারের কাছেও ঈর্ষা করার মতো। প্রতি দিনের খেলা বা অনুশীলনের অন্তত ৪৫ মিনিট আগে ইলাস্টিক ব্যান্ড নিয়ে স্ট্রেচিং করতে ভালবাসেন এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। রেজ়িস্ট্যান্স ব্যায়াম তাঁর খুবই পছন্দের। মন ভাল রাখতে নিয়মিত প্রাণায়াম করেন।
কঠোর অনুশাসনে থাকেন লুকা মদ্রিচ।
ক্রেগ গর্ডন
স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ২০০২ সাল থেকে খেলছেন। হার্ট অফ মিডলোথিয়ান ক্লাবের হয়ে খেলা শুরু, ২০০৪ সালে স্কটল্যান্ড জাতীয় দলে তার অভিষেক ঘটে। ৪৩ বছর বয়সেও তাঁর ফিটনেস তরুণ তুর্কিদের থেকেও বেশি। ডায়েটে কড়া নিয়ম মানলেও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতেই পছন্দ করেন ক্রেগ। এমন খাবারই তাঁকে পুষ্টি ও শক্তির জোগান দেয়। একাধিকবার পা ভাঙা এবং হাঁটুর গুরুতর আঘাতের পরেও মাঠে ফিরেছেন বার বার। পেশির জোর বৃদ্ধিতে ওজন তুলে ব্যায়াম ও নানা রকম স্ট্রেচিং করেন তিনি। ক্রেগের পছন্দের ব্যায়াম হল প্লায়োমেট্রিক। এক ধরনের স্ট্রেংদেনিং এক্সারসাইজ়। ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টেনিস খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে এই ব্যায়াম। মূলত শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম। এর নিয়মিত অনুশীলনের খুব কম সময়ের মধ্যে ‘টোনড বডি’ পাওয়া যায়।
ম্যানুয়েল নয়্যার
জার্মানির তারকা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার এ বারের বিশ্বকাপেও অন্যতম আকর্ষণ। ২০২২ সালের শেষের দিকে পা ভেঙে যাওয়ার অনেকেই ভেবেছিলেন আর হয়তো ফিরবেন না। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে অফুরন্ত শক্তি নিয়ে তিনি যে ভাবে মাঠে ফিরেছেন, তা প্রশংসনীয়। ‘ব্যালান্স ট্রেনিং’ নিয়মিত করেন নয়্যার। মন ভাল রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেডিটেশন করেন। মাছ ও মুরগির মাংস তাঁর প্রিয়। শরীর তরতাজা রাখতে চুমুক দেন গ্রিন-টিতে। কলা খুবই পছন্দ তারকা গোলরক্ষকের। খেলার মাঝে এনার্জি ধরে রাখতে কলা খেতেও দেখা যায় তাঁকে।