শৌচালয়ে যাওয়ার আগে চুমুক দিন বিশেষ পানীয়ে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সকালে চা বা কফি না খেয়ে শৌচালয়ে যান না? মলত্যাগের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে গরম পানীয়? কিন্তু সকাল সকাল অতিরিক্ত ক্যাফিন শরীরে গেলে স্বাস্থ্যের পক্ষে তা ক্ষতিরক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ দেশের এবং বাঙালির বহু পরিচিত এক পানীয় সাহায্য করতে পারে আপনাকে। সকালে উঠে চা বা কফি বানানোর বদলে অল্প টেংরির জুস বানিয়ে খেয়ে নিন। মলত্যাগের জন্য জোর করে বেগ আনার প্রয়োজন পড়বে না।
বাংলার ঘরে ঘরে পথ্য হিসেবে খাওয়া হত টেংরির জুস। এক সময়ে এটি ছিল ঘরোয়া পথ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখনও বহু পরিবারেই অসুস্থ হলে বা দুর্বল লাগলে পাঁঠার টেংরি সেদ্ধ করে তার ঝোল খাওয়ানোর চল রয়েছে। সেই পুরনো পানীয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং হজমশক্তির প্রসঙ্গে। আর এই পথ্য পানীয় খেয়েই সকালে পেট পরিষ্কার হতে পারে দ্রুত। তখন আর গরম পানীয়ের জন্য ক্যাফিন সেবন করতে হবে না।
টেংরির জুস কী?
মাংসের হাড়, বিশেষ করে টেংরি দীর্ঘ ক্ষণ জলে সেদ্ধ করলে যে পুষ্টিকর ঝোল তৈরি হয়, তাকেই সাধারণ ভাবে টেংরির জুস বলা হয়। দীর্ঘ ক্ষণ রান্নার ফলে হাড় এবং অস্থিমজ্জা থেকে নানা পুষ্টি উপাদান ঝোলে মিশে যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী। ফলে একাধারে মলত্যাগেও সুবিধা হয়, শরীরও পুষ্টি পায়।
টেংরির জুস। ছবি: সংগৃহীত
কেন টেংরির জুস উপকারী?
জলের জোগান বাড়ায়: এক বারে পেট পরিষ্কার না হওয়া, সকাল সকাল বেগ না আসা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ হল শরীরে পর্যাপ্ত জলের অভাব। টেংরির জুস এক দিকে যেমন পুষ্টির জোগান দেয়, তেমনই শরীরকে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে।
হজমতন্ত্রকে সক্রিয় করে: ক্যাফিনযুক্ত পানীয়ের তুলনায় এই ঝোল সহজে হজম হতে পারে। সকালে খালি পেটে গরম টেংরির জুস খেলে হজমতন্ত্র সক্রিয় হতে পারে। পাশাপাশি, দিনের শুরুতেই শরীর কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
অন্ত্রের জন্য উপকারী: টেংরি সেদ্ধ করার ফলে যে জেলাটিন জাতীয় উপাদান তৈরি হয়, তা অন্ত্রের আবরণকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। ফলে প্রদাহ বা অস্বস্তি কমে যেতে পারে। অন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
অন্ত্রের সচলতা বাড়ায়: পরিপাকতন্ত্র বা পেট স্বাভাবিক ভাবে সচল রাখার জন্য সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলি অত্যন্ত জরুরি। আর সে সব উপাদান এই পানীয়ে রয়েছে। শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি পেটের পেশি সঙ্কোচন ও প্রসারণে সাহায্য করে। ফলে খাবার হজম ও মলত্যাগে সুবিধা হয়।