Heart Disease

‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ কী? হৃদ্‌রোগ হওয়ার আগে কেন দেখা দেয় এই অবস্থা আর কাদের বেশি হয়?

হার্টের রোগ বলেকয়ে আসে না। তবে গবেষণা বলছে হৃদ্‌রোগ হানা দেওয়ার আগে এক বিশেষ অবস্থা তৈরি হয়, যেটি জানান দেয় যে হার্টের অবস্থা বিকল হতে চলেছে। ধমনীতে চর্বি জমার অনুকূল পরিবেশও তৈরি হয়েছে। সে অবস্থাটিকে বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। কী এই অবস্থা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৬
Share:

হৃদ্‌রোগের আগের অবস্থা, কাদের দেখা যায় বেশি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ কোনও রোগ নয়। বরং হৃদ্‌রোগ হওয়ার আগের এমন এক পর্যায়, যা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের পূর্বাভাস দিতে পারে। এ অবস্থাটি নিয়ে সচেতনতা তেমন নেই। অথচ সাম্প্রতিক নানা গবেষণায় হৃদ্‌রোগের পূর্বলক্ষণ বুঝতে ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’-এর উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন।

Advertisement

কী এই ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’?

শরীরের ভিতরে যে রক্তনালিগুলি রয়েছে, সেগুলির ভিতরে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক আস্তরণ থাকে। একে বলা হয় এন্ডোথেলিয়াম। এর কাজ হল রক্তনালিকে সুরক্ষা দওয়া, তার সঙ্কোচন-প্রসারণে সাহায্য করা এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম করা। কোনও কারণে এই আস্তরণটি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই রক্তনালিগুলির সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায়। এই অবস্থাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। এটিই ধমনীতে চর্বি বা প্লাক জমা বা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের মূল কারণ।

Advertisement

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে, যা রক্তনালিকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাইট্রিক অ্যাসিডের উৎপাদন কমে যায়। রক্তনালি তার নমনীয়তা হারায়। ভিতর থেকে শক্ত হতে শুরু করে। অত্যধিক প্রদাহ শুরু হয়। রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে থাকে। ফলে এন্ডোথেলিয়াম স্তরের নীচে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমতে থাকে। একে বলে প্লাক। এর কারণেই ধমনীর পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে ব্লকেজ তৈরি হয় যা থেকে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়ে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

Advertisement

রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তা এন্ডোথেলিয়াম ডিসফাংশনের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আবার ডায়াবিটিসের রোগী, যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাঁদের এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি দ্রত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ধূমপান বেশি করলে নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক শরীরে ঢুকে খুব তাড়াতাড়ি এন্ডোথেলিয়াম স্তরটিতে ক্ষত তৈরি করে। ফলে রক্তনালি সঙ্কুচিত হতে থাকে। সে কারণেই বলা হয়, অত্যধিক ধূমপান করলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন, কম পরিশ্রম করা, শরীরচর্চার অভাবেও রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হতে পারে। তখনও এন্ডোথেলিয়াম স্তরটির ক্ষতি হয়।

মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২-৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিরাপদ পর্ব হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এ সময়ে ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণ বেশি হয়। তবে রজোনিবৃত্তির পরে ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণ কমে যায় বলে তখন রক্তনালির নমনীয়তা নষ্ট হতে থাকে অনেক ক্ষেত্রেই। ফলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

এন্ডোথেলিয়াম ডিসফাংশন এড়ানোর সহজ উপায় হল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও খাওয়াদাওয়া পরিমাপ মতো করা। সে সঙ্গে নেশার অভ্যাস কমানোও জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement