Hoarding Disorder

ভাঙা খেলনা, পুরনো বিলও জমিয়ে রাখেন? বাতিল-অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমানোর নেশাই যখন রোগ

এমন এক মানসিক সমস্যা, যেখানে মানুষ অকারণে নানাবিধ জিনিস জমাতে থাকেন। সেই সব জিনিসের অধিকাংশই বাতিল, অপ্রয়োজনীয়। যেমন, ভাঙা খেলনা, ফাঁকা শিশি বা বোতল, পুরনো খবরের কাগজ, বহু পুরনো রেস্তরাঁর বিল, এই সবও নিজের কাছে আগলে রাখেন অনেকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৫
Share:

পুরনো, ফেলে দেওয়া জিনিসও জমিয়ে রাখেন, কী এই সমস্যা? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পুরনো জিনিস ফেলতে মন চায় না? পরিবারের কোনও একজনের এই সমস্যা দেখবেনই। অপ্রয়োজনীয়, বাতিল জিনিসও জমিয়ে রাখতে ভালবাসেন। সে পুরনো খবরের কাগজ হোক, কেটে যাওয়া বালব, ছেঁড়া তার অথবা হোটেল-রেস্তঁরার পুরনো বিল। মূল্যহীন জিনিসপত্র যার কোনও প্রয়োজনই নেই, সেগুলিও রেখে দেন যত্ন করে। ফেলে দিতে গেলেই রাগ, অভিমান, রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ বেঁধে যায়। ধীরে ধীরে এই জমানো জিনিসের স্তূপ ঘরবাড়ি এমন ভাবে দখল করে নেয় যে, চারপাশটাই অগোছালো হয়ে ওঠে। পুরনো, বাতিল জিনিস জমানোর এই নেশাও কিন্তু এক প্রকার মানসিক সমস্যা, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে 'হোর্ডিং ডিজ়অর্ডার'বা ডিসপোসোফোবিয়া।

Advertisement

কী এই হোর্ডিং ডিজ়অর্ডার?

শৌখিন জিনিস জমানোর নেশা অনেকেরই থাকে। হোর্ডিং ডিজ়অর্ডার কিন্তু তার চেয়ে অনেক আলাদা। এ ক্ষেত্রে ভাঙাচোরা, পুরনো, বাতিল জিনিসপত্র নিজের কাছে আগলে রাখার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। হোর্ডিং ডিজ়অর্ডারে ভোগা লোকজন এমন জিনিসই রেখে দেন, যেগুলির আদৌ কোনও মূল্য নেই অথবা প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাঁরা মনে করেন, এই সব জিনিসের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে অথবা ভবিষ্যতে এগুলি আবারও কাজে আসতে পারে। শোয়ার ঘর, রান্নাঘর বা শৌচাগারেও এমন ভাবে বাতিল বা পুরনো জিনিস জমিয়ে রাখতে পছন্দ করেন তাঁরা। ফলে গোটা জায়গাই অগোছালো হয়ে থাকে।

Advertisement

কাদের হয় এই রোগ?

হোর্ডিং ডিজ়অর্ডার কিছুটা বংশগত, জিনবাহিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছোয়। তা ছাড়া যাঁরা খুব বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাঁরা পুরনো জিনিসপত্রও আঁকড়ে ধরে থাকতে চান। এমনও দেখা যায়, জমানো জিনিসের স্তূপে পোকামাকড় হলে বা সেই জায়গা অপরিষ্কার হলেও তাঁরা পরিষ্কার করতে রাজি হন না। কেউ সেখানে হাত দিলে প্রচণ্ড রেগে যান। প্রবল মানসিক কষ্টে ভুগতে থাকেন। জমানো জিনিস যদি জোর করে ফেলে দেওয়া হয়, তা হলে সেই সব মানুষের অ্যাংজ়াইটি অ্যাটাকও হতে পারে। গভীর অবসাদ দেখা দিতে পারে।

হোর্ডিং ডিজ়অর্ডার কম বয়সেই দেখা দিতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণগুলি আরও প্রকট হয়। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। আবার যাঁরা স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া, অবসাদ বা উদ্বেগজনিত রোগে ভুগছেন, তাঁদের এমন হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

হোর্ডিং ডিজ়অর্ডারের চিকিৎসা বেশ সময়সাপেক্ষ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি মানতেই চান না যে, তাঁর কোনও সমস্যা রয়েছে। হোর্ডিং ডিজ়অর্ডার যদি মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়, তা হলে এর থেকে অবসাদ, ঘন ঘন প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।

এই রোগের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হল কগনিটিভ বিহেভেরিয়াল থেরাপি। কাউন্সেলিং করে রোগীকে বোঝানো হয়। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলও শেখানো হয়। তা ছাড়া ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা হয়। তবে মনোবিদের কাছে যত দ্রুত যাওয়া যাবে, তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement