কত বার প্রস্রাব হলে বুঝতে হবে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার? ছবি: আনন্দবাজার ডট কম।
কেউ দিনে খুব কম প্রস্রাব করেন। কারও আবার ঘন ঘন শৌচালয়ে যাওয়ার অভ্যাস। জল কম খেলে প্রস্রাব কম হয়। আবার জল বেশি খেলে বার বার মূত্রত্যাগের প্রবণতাও স্বাভাবিক। কিন্তু দিনে কত বার প্রস্রাব হলে তা স্বাভাবিকের পরিসরে থাকবে? কখনই বা তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে?
বেঙ্গালুরু নিবাসী কিডনির রোগের চিকিৎসক হর্ষকুমার এইচএন এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, সাধারণত দিনে আট বার এবং রাতে এক বার প্রস্রাব করাকে স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। কিন্তু রাতে বার বার প্রস্রাব পাওয়া, এবং শৌচালয়ে গেলে খুব কম পরিমাণ প্রসাব হলে তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে।
তবে আট বারের বেশি গেলেই যে তা অস্বাভাবিকের তালিকায় ফেলতে হবে, তেমনটাও বলছেন না চিকিৎসক। আসলে প্রস্রাব কতটা হবে, কত বার যেতে হবে, তা কিছুটা মরসুম এবং তরল খাবার গ্রহণের উপর নির্ভর করে। কেউ বেশি জল খেলে, বার বার চা-কফি খেলে প্রস্রাব পেতে পারে। কিন্তু আট বারের চেয়ে খুব বেশি বার যেতে হলে তা নিয়ে সতর্ক হওয়াই ভাল।
ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া মানে কি ডায়াবিটিসের লক্ষণ, না কি তা কিডনির সমস্যার ইঙ্গিতবাহী— এমন প্রশ্ন থাকে অনেকের মনেই। কারণ, কিডনি ভাল আছে কি না, তা অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায় প্রস্রাবের মাত্রা, রং, গন্ধের দ্বারা। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে প্রস্রাবে তার প্রভাব পড়বেই।
এ ক্ষেত্রে কখন সতর্ক হওয়া দরকার?
· পা বা পেট ফুলতে শুরু করলে সতর্কতা জরুরি।
· আচমকা ওজন কমে যাওয়া, বার বার জল তেষ্টা পাওয়া এবং মূত্রত্যাগের প্রবণতাও খুব স্বাভাবিক নয়।
· ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া সত্ত্বেও প্রস্রাব খুব স্বল্প পরিমাণে হলেও সতর্ক থাকা দরকার।
· প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা, প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতিও স্বাভাবিক নয়।
· প্রস্রাবের রং বদল, ঝাঁঝালো গন্ধ, ফেনা হলেও সতর্কতা জরুরি।
· জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট আর তার সঙ্গে বার বার প্রস্রাবের প্রবণতা থাকলেও তা কিডনির অসুখের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসক বলছেন, এই ধরনের উপসর্গের মধ্যে কোনও একটি থাকলেই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। মূত্র পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় শরীরে সংক্রমণ রয়েছে কি না। সেই রিপোর্টের উপর এবং উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হবে।