Purple Toothpaste

হলদেটে দাঁত সাদা হবে নিমেষে! বেগনি রঙা মাজন নিয়ে মাতামাতি ইন্টারনেটে, আদৌ নিরাপদ না বিজ্ঞাপনী চমক?

নুন দেওয়া মাজন নিয়ে একসময়ে বিস্তর হইচই হয়েছিল। বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে অনেকে তা কিনেও নিয়েছিলেন। এখন বেগনি রঙের মাজন নিয়ে নতুন করে মাতামাতি শুরু হয়েছে। এই মাজন একবার ব্যবহারেই দাঁত মুক্তোর মতো সাদা ও ঝকঝকে হবে বলেই দাবি করা হয়েছে। আদৌ কি সেটি দাঁত ও মাড়ির জন্য নিরাপদ?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:৪৫
Share:

বেগনিরঙা মাজন আসলে কী, স্বাস্থ্যকর না কেবলই বিজ্ঞপনী চমক? ছবি: সংগৃহীত।

গাঢ় বেগনি রঙের মাজন। তা দিয়ে দাঁত মাজার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বেগনি রঙের প্রলেপ পড়লেই দাঁত একেবারে ঝকঝকে হয়ে উঠবে, হলদেটে ছোপ উধাও হবে, দাবি এমনটাই। বেগনি রঙের মাজন রাতারাতি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। অনেকে তা ব্যবহার করাও শুরু করেছেন। তবে এমন মাজন কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?

Advertisement

বেগনি মাজন কী?

দেখতে সাধারণ মাজনের মতোই। আসলে এটিকে একপ্রকার প্রসাধনীই বলা যায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, বেগনিরঙা মাজন আসলে ‘কসমেটিক কালার কারেক্টর’। দাঁতে লাগালে নিমেষের মধ্যে হলদেটে বা কালচে ছোপ ঢেকে যাবে এবং দাঁত সাদা ও ঝকঝকে দেখাবে। তবে তা হবে সাময়িক ভাবে। পার্টিতে যাওয়ার আগে, বিয়েবাড়ি বা কোনও নিমন্ত্রণে যাওয়ার আগে এটি দিয়ে একবার দাঁত মেজে নিলেই, দাঁত ঝকঝকে দেখাবে। যাঁদের দাঁতে কালচে ছোপ পড়েছে অথবা হলদেটে দাগ রয়েছে, তাঁরা যদি এটি ব্যবহার করেন, তা হলে দাগছোপ ঢেকে যাবে সাময়িক ভাবে। মুখের দাগছোপ ঢাকতে যেমন কনসিলার ব্যবহার করা হয়, তেমনই দাঁতের জন্যও এটি ব্যবহার করার চল হয়েছে এখন।

Advertisement

বেগনি রঙের মজন কি আদৌ দাঁতের জন্য ভাল?

আদৌ কি নিরাপদ?

মাঝেমধ্যে এমন মাজন ব্যবহার করা যেতে পারে খানিকটা প্রসাধনীর মতোই। তবে প্রতিদিন এমন মাজনে দাঁত মাজা মোটেই স্বাস্থ্যকর হবে না। চিকিৎসকদের মত, এই ধরনের মাজনে এমন কিছু রাসায়নিক ও কৃত্রিম রং মেশানো থাকে, যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। সংক্রমণ হতে পারে মাড়িতেও।

বেগনি মাজনের এমন রঙের কারণ হল ‘ব্লু-১’ এবং ‘রেড-৩৩’ রাসায়নিক। এ ধরনের রাসায়নিক দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে গেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

দাঁতের ময়লা ঘষে তুলতে এতে থাকে হাইড্রেটেড সিলিকা বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড ও ক্যালশিয়াম কারবোনেটের গুঁড়ো। এই উপাদানগুলি দাঁতের এনামেলের ক্ষয় ঘটায়।

পেসস্টটি যাতে শুকিয়ে না যায়, সে কারণে থাকে গ্লিসারিন ও সরবিটল। মাজনের ফেনা তৈরির জন্য থাকে সোডিয়াম লরিল সালফেট (এসএলএস) যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে মাড়ির কোষ ক্ষয়ে যেতে পারে। এর থেকে মুখে ঘা, ফোস্কা বা আলসারের আশঙ্কাও বাড়তে পারে।

মাজনটির স্বাদ ভাল করার জন্য এতে নানা রকম কৃত্রিম ফ্লেভার ও কৃত্রিম মিষ্টিও মেশানো হয়।

বেগনি মাজন সাময়িক ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু একটানা নয়। দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ফ্লুয়োরাইড, পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্রোনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত দাঁতের মাজন ব্যবহার করা ভাল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement